প্রতিদিনের ৭ অভ্যাসেই শরীরে ঢুকছে লক্ষ লক্ষ মাইক্রোপ্লাস্টিক

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৩ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো/ এআই

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা, তাড়াহুড়োয় বোতলের পানি, বা প্যাকেটজাত খাবার সবই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু এই সাধারণ অভ্যাসগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে অদৃশ্য এক বিপদ? ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যাকে বলা হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক, প্রতিদিন অজান্তেই ঢুকে পড়ছে আমাদের শরীরে। বিভিন্ন গবেষণা ও খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য বলছে দিনে মাত্র তিন কাপ চা খেলেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে প্রায় ৭৫ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা। এই কণাগুলো রক্তে মিশে ধীরে ধীরে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এমনকি মস্তিষ্কেও পৌঁছে যেতে পারে।

যে ৭টি অভ্যাস আমাদের অজান্তেই ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে-

১. প্লাস্টিক কাপে চা
অফিসে বা বাইরে চা খাওয়ার সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহার হয় প্লাস্টিক বা কাগজের কাপ। গরম চায়ের সংস্পর্শে এলে এসব কাপ থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বের হয়ে চায়ের সঙ্গে মিশে যায়। এছাড়া অনেক টি-ব্যাগ তৈরি হয় পলিপ্রপেলিন বা নাইলন জাতীয় প্লাস্টিক দিয়ে। গরম পানিতে ডুবলেই সেখান থেকেও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বের হয় এবং আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।

২. পানির বোতল
দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জিনিসগুলোর একটি প্লাস্টিকের বোতল। কিন্তু এই বোতলে থাকা পানি থেকেও শরীরে ঢুকে পড়ে হাজার হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক। 
শুধু পানি নয়- সফট ড্রিংক, সোডা বা বোতলজাত পানীয়েও এই কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

৩. নুন ও চিনি
সমুদ্র দূষণের কারণে এখন সমুদ্রের লবণেও পাওয়া যাচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। গবেষণায় দেখা গেছে, চিনির তুলনায় নুনে এই কণার পরিমাণ বেশি, তবে চিনি পুরোপুরি নিরাপদ নয়।

৪. প্লাস্টিকের পাত্র ও মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার
প্লাস্টিকের বাটি বা কন্টেইনারে খাবার গরম করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাপের প্রভাবে প্লাস্টিক ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়ে খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। রেস্টুরেন্টের কালো প্লাস্টিক কন্টেইনারও একইভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।

৫. প্রক্রিয়াজাত খাবার
চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস বা প্যাকেটজাত খাবার এসব শুধু পুষ্টিহীনই নয়, বরং প্লাস্টিক মোড়কের কারণে এতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে মিশে যেতে পারে।

 ৬. নন-স্টিক বাসন
নন-স্টিক প্যানের ওপরের আবরণে সামান্য আঁচড় লাগলেও বিপদ। একটি ছোট আঁচড় থেকেই বের হতে পারে ৯ হাজার পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক। আর পুরনো বা ক্ষয়প্রাপ্ত প্যানে রান্না করলে তা বেড়ে হতে পারে ২০ থেকে ২৩ লাখ কণা পর্যন্ত।

৭. প্লাস্টিক প্যাকেজিং
প্লাস্টিকের প্যাকেটে রাখা দুধ, চিজ, মশলা বা সবজি সবকিছুতেই মিশতে পারে প্লাস্টিক কণা। বিশেষ করে পলিইথিলিন ও পলিপ্রপেলিন জাতীয় প্লাস্টিক থেকে এসব কণা ধীরে ধীরে খাবারে ছড়িয়ে পড়ে।

কেন এটা উদ্বেগজনক?
মাইক্রোপ্লাস্টিক এতটাই ছোট যে এগুলো সহজেই রক্তে মিশে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, কোষের ক্ষতি করতে পারে এমনকি মস্তিষ্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন?
কাচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা, গরম খাবার কখনো প্লাস্টিকে না রাখা, বোতলজাত পানির বদলে ফিল্টার করা পানি পান করা, টি-ব্যাগের বদলে খোলা চা ব্যবহার করা এবং প্যাকেটজাত খাবার কমিয়ে তাজা খাবার খাওয়া। [সূত্র: আনন্দবাজার]

শার্শার মাঠে সবুজের ঢেউ, বোরো ধানে বাম্পার ফলনের আশা
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট কফির মতো, কিছু বের হলে ইনস্ট্যান্ট মন্তব…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
‘আমি শিক্ষামন্ত্রী, আমিই তো আপনাদের জন্য সরকার’
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
এইএচএসসি পাস করার সাথে সাথে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারে, সে ব্য…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
যশোর পৌর এলাকায় মশার উপদ্রব, বাড়ছে জনদুর্ভোগ
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে চাকরি, আবেদন এসএসসি পাস…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬