ভূমিকম্প সহনশীল করতে ঢাকা ঘিরে ‘মেগা প্ল্যান’, নিয়োগ পাবেন ১ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবী 

২৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ PM
নবম আরবান ডালালগ-২০২৬

নবম আরবান ডালালগ-২০২৬ © সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাকে ভূমিকম্পের বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে এবং দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা বা ‘মেগা প্ল্যান’ নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১ লাখ প্রশিক্ষিত, দক্ষ স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ এবং জরুরি মুহূর্তে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ৪৫০টি সুনির্দিষ্ট ‘অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট’ বা সমবেত হওয়ার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা ও সক্ষমতা বাড়াতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসার একটি প্রশাসনিক প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত নবম ‘আরবান ডায়ালগ-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এসব তথ্য তুলে ধরেন। গুরুত্বপূর্ণ এই ডায়ালগের আয়োজন করে আরবান আইএনজিও ফোরাম বাংলাদেশ।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় ঢাকা শহরে ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় ১ লাখ নতুন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে, যারা যেকোনো বিপর্যয়ে ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ বা প্রাথমিক উদ্ধারকর্মী হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পূর্বে সরকারিভাবে ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর একটি ডেটাবেস থাকলেও দীর্ঘদিন সেটি হালনাগাদ না থাকায় বর্তমানে ১৮ বছরের বেশি বয়সি তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন করে প্রায় ৫০ হাজার ৫০০ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব আরও বলেন, ‘আমরা দেশের এই বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে মূল শক্তি বা পুঁজি করে ভলান্টিয়ার নিয়োগ করতে চাই। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত এই ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবীর প্রত্যেককে প্রাথমিক চিকিৎসা, উদ্ধারকাজ ও মানসিক স্বাস্থ্যসহ প্রয়োজনীয় বিশেষ সরঞ্জাম ও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’

৪৫০ অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট ও ভারী যন্ত্রপাতি সংগ্রহ

সচিব তার বক্তব্যে জানান, ভূমিকম্প-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে কোথায় সমবেত হবে কিংবা সরকারি ত্রাণ ও জরুরি সাহায্য কোথায় পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত করতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের (উত্তর ও দক্ষিণ) সঙ্গে সমন্বয় করে ৪৫০টি উন্মুক্ত ও নিরাপদ জায়গা ‘অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট’ হিসেবে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়েছে। এই তালিকাটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

এ ছাড়া দুর্যোগের পর ধসে পড়া ভবন বা ধ্বংসস্তূপের নিচে উদ্ধারকাজের জন্য সশস্ত্র বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে ৫২ থেকে ৫৪ ধরনের আধুনিক ভারী যন্ত্রপাতির তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি সেবায় বেসরকারি খাতের কাছে থাকা হেলিকপ্টার ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের বেড সক্ষমতার তথ্যও সংগ্রহের কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের খ্যাতনামা অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। বাংলাদেশের এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) গ্র্যাজুয়েশনের প্রেক্ষাপটে নগর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামোগত ঘাটতি ও ব্যাপক আর্থসামাজিক বৈষম্য নিরসনে সুপরিকল্পিত, জলবায়ু-সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।

আরবান ডায়ালগে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা ঘোষ নগরায়ণের বিকেন্দ্রীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক চিন্তা না করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত টেকসই নগরায়ণ নিয়ে ভাবতে হবে, যাতে মানুষের রাজধানীমুখী হওয়ার প্রবণতা বা মাইগ্রেশন অনেকাংশে কমে আসে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মানসম্মত উচ্চশিক্ষা বা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত থাকত, তবে সাধারণ মানুষ কেন এত কষ্ট করে ঢাকায় আসত?’

জনবান্ধব নগরনীতি বাস্তবায়নে ১৬ দফা ঘোষণা

দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এবং জনবান্ধব নগরনীতি বাস্তবায়নের দাবিতে অনুষ্ঠানে ১৬ দফা ঘোষণাপত্র পেশ করা হয়। ঘোষণাপত্রের উল্লেখযোগ্য দফার মধ্যে রয়েছে—ভূমির মালিকানার আইনি জটিলতা বা বৈধতা নির্বিশেষে বস্তিবাসীসহ সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা, যা মানুষের মৌলিক অধিকার। 

পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শহর এলাকায় ক্রমবর্ধমান দাবদাহ মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ‘ন্যাশনাল হিট অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি, নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মায়েদের সহায়তায় এলাকাভিত্তিক চাইল্ড-কেয়ার হাব প্রতিষ্ঠা এবং বর্জ্য ও স্যানিটেশন কর্মীদের পৌর ব্যবস্থাপনার মূল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করে তাঁদের ন্যায্য মজুরি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

সাজিদা ফাউন্ডেশনে চাকরি, আবেদন ২৮ জুন পর্যন্ত
  • ২৪ জুন ২০২৬
৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে এনটিআরসিএর সভা, যে সিদ্ধান্ত…
  • ২৪ জুন ২০২৬
সাবঅল্টার্নদের পছন্দ রোনালদো, এলিটদের মেসি
  • ২৪ জুন ২০২৬
মিটফোর্ড হাসপাতালে হামলা, প্রতিরোধের মুখে টয়লেটে আশ্রয় নিলে…
  • ২৪ জুন ২০২৬
গ্রেপ্তারের এক দিন পর কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যু
  • ২৪ জুন ২০২৬
‘কাজে ফিরতে নয়, মা হারানো সন্তানের পাশে দাঁড়াতে চাই’— আদালত…
  • ২৪ জুন ২০২৬