জাতীয় সংসদে বাদানুবাদ © টিডিসি সম্পাদিত
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাকে কেন্দ্র করে দেওয়া সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘বানোয়াট’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন এবং তা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। উপনেতা বলেন, ‘এখানে কোনটা সঠিক তা এখনো প্রমাণিত (ডিসাইডেড) হয়নি। এ ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে, কিন্তু এটিই বোধহয় প্রথম পার্লামেন্টে আসছে। কোনো ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার আগেই একটা দলকে পার্লামেন্টে দায়ী করবে, বানোয়াট কথা বলবে এবং ষড়যন্ত্র করবে, এটা কখনো মেনে নেওয়া যায়না।’
আজ রোববার দুপুরে শিবির নেতা গ্রেপ্তার ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ২৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার ও পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধানের বিষয়টি সংসদকে জানান।
জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলা এবং তাকে উদ্ধারের প্রক্রিয়াটি সংসদে তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু অনেকেই ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তার নিখোঁজের বিষয়টি অন্যভাবে বর্ণনা করে সরকারকে দায়ী করতে চেয়েছিল, তাই প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের পর আমরা মনে করলাম এটি জাতির সামনে প্রকাশ করা দরকার। সে কারণেই আমি জাতীয় সংসদে তা প্রকাশ করলাম।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট দলকে কোণঠাসা করতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিতর্কিত বিষয়টি সংসদে তুলেছেন।
তিনি বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ‘আমি জানতে চাচ্ছি জিসান এখন কোথায় আছে? কুমিল্লার পুলিশ জিসান কিংবা ওই মেয়েটির সঙ্গে সাংবাদিকসহ কাউকেই দেখা বা কথা বলতে দিচ্ছে না কেন? এখন কি নতুন কোনো প্লট তৈরি হচ্ছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে উনি এবং পুলিশ একসঙ্গে প্লট তৈরি করছেন। এখানে কোনটা সঠিক তা এখনো প্রমাণিত ‘ডিসাইডেড’ হয়নি। এ ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে, কিন্তু এটিই বোধহয় প্রথম পার্লামেন্টে আসছে। কোনো ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার আগেই একটা দলকে পার্লামেন্টে দায়ী করবে, বানোয়াট কথা বলবে এবং ষড়যন্ত্র করবে, এটা কখনো মেনে নেওয়া যায়না। আমি মনে করি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রত্যাহার (উইথড্র) করা উচিত বা এ বক্তব্যকে আপনার এক্সপাঞ্চ করা উচিত।’
বিরোধীদলীয় উপনেতার এই বক্তব্যের পর সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সবাইকে শান্ত হওয়ার ও বসে পড়ার আহ্বান জানান। তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, এটা সংসদের সর্বোচ্চ জায়গা। এখানে সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করবেন। একই সাথে বিতর্কিত ওই বক্তব্যটি পরীক্ষা করে সংসদীয় রেকর্ড থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন ডেপুটি স্পিকার।