ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম © সংগৃহীত
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় দেশের তরুণদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) মাধ্যমে এক হাজার তরুণকে দেওয়া হবে বিশেষ আইটি প্রশিক্ষণ। এর মাধ্যমে বিশ্বের ১৩টি দেশের আইসিটি কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের প্রবেশের দারুণ সুযোগ তৈরি হবে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নিসা সিদ্দিকার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এসব তথ্য জানান। সংসদ সদস্য নূরুন্নিসা সিদ্দিকা (মহিলা আসন-৩৭) তার প্রশ্নে মন্ত্রীর কাছে জানতে চান— চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় দেশের তরুণদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা, আইটি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরকারি ডিজিটাল সেবার স্বচ্ছতা ও সহজপ্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বর্তমানে কী কী কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?
প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) কর্তৃক নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি নানা পদক্ষেপের কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, আগামী ৫ বছরে বিসিসির মাধ্যমে ১ হাজার আন্ডার গ্র্যাজুয়েট/গ্র্যাজুয়েটদের ITEE (Information Technology Engineers Examination) প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে। এই যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১৩টি দেশের আইসিটি কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েট চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রবেশের সুযোগ হবে।
তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে বিসিসির মাধ্যমে ৫ হাজার ২০ জন চাকরিপ্রার্থী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট, পাইথন প্রোগ্রামিং, ডাটা অ্যানালাইটিক্স, সাইবার সিকিউরিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া তরুণ-তরুণীদের ১ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়েও উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী সংসদকে জানান, ৭০০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে ৭০০ জনকে WIFI (Women in ICT Frontier Initiative) বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে চাকরির ক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।