খালেদা জিয়াকে নিয়ে যে কবিতা লিখেছিলেন আল মাহমুদ © টিডিসি সম্পাদিত
আধুনিক বাংলা সাহিত্য নিজ গুণে ভাস্বর হয়ে আছেন আল মাহমুদ। আধুনিক ভাষা কাঠামোর ভেতরে আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ ঘটিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে সক্রিয় থেকে যিনি আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাক্ভঙ্গিতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন।
বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে কবিকে তার প্রাপ্য সম্মান না দেওয়া হয়নি। তবে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সদ্য প্রয়াত দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে আল মাহমুদের লেখা কবিতা খালেদা পাঠ করলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যার মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হলো আল মাহমুদ কোনো যুগের নন, কালের গর্ভ আল মাহমুদকে বিলীন করে দিতে পারেনি।
বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের পর ‘খালেদা’ শিরোনামে কবিতাটি লিখেছিলেন আল মাহমুদ। যেটি ১৯৯২ সালের ২০ নভেম্বর শুক্রবার ‘দৈনিক যুগান্তর’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে তা প্রকাশিত হয়েছিল।
খালেদা
আল মাহমুদ
তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছে বাংলার ভোরের আকাশ
এদেশের গুল্মলতা ছুঁতে চায় পল্লবিত আঁচল তোমার।
যেন এক প্রতিশ্রুতি হেঁটে যায় আমাদের কণ্টকিত কালের ভিতরে।
লাঞ্ছিতের আহ্বানে যেন মাটি জন্ম দিল শস্যগন্ধী মাটিরই কন্যাকে।
প্রত্যাশার কণ্ঠস্বর কে জানে কি মন্ত্রবলে তুমি
কেবল ছড়িয়ে দিচ্ছ, মাঠঘাট আদিগন্ত শস্যের কিনারে।
আমরাও সাক্ষ্য দেব, হাঁ আমরা একদা দেখেছি,
দেখেছি মাতাকে এক অনিঃশেষ আঁধারে দাঁড়িয়ে
আলোর ডানার মত মেলে দিয়ে ব্যাগ্র দুই বাহু
এগারো কোটির মাঝে নেমেছিল বিদ্যুৎবিভায়!
কখনো ভুলোনা যেন তোমার ঘোমটায় আছে মানুষের আশার বারুদ,
ভুলোনা, তোমার বাক্য প্রতীক্ষিত নিঃশ্বাস জাতির।
অবিচল, পিঙ্গলাক্ষী হে মাতৃকা, মানুষের আশাকে জাগাও।