সরকারি বরাদ্দের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রায় সম্পন্ন, বাকি কেন্দ্রে স্থাপন নিয়ে শঙ্কা কাটেনি © টিডিসি সম্পাদিত
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে। তবে সরকার ভোটগ্রহণের ২০ দিন আগে প্রায় ৭২ কোটি টাকার যে বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে, তা কেবল অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ২২ হাজার কেন্দ্রের জন্য। এ অবস্থায় সকল কেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরায় আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এখনও অনেক কেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরা কেনাও হয়নি।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকল ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। গত জানুয়ারিতে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারের দেওয়া তথ্যমতে, সারা দেশে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। পরে ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে তার বাসভবন যমুনায় নিকারের ১১৯তম সভায় ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার ৯৪৬টি কেন্দ্রের জন্য সিসিটিভি ক্রয়ে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই বরাদ্দ অনুযায়ী, কেন্দ্রগুলোতে ৬টি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
নির্দেশনা থাকলেও সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নাও হতে পারে। কারণ ইলেক্ট্রিসিটিসহ অনেকগুলো বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। অনেক ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নেই— কেএম আলী নেওয়াজ, অতিরিক্ত সচিব, নির্বাচন কমিশন
তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দকৃত কেন্দ্রগুলোর জন্যও সিসিটিভি ক্যামেরা কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রয় করা হয়নি। অল্প সময়ে সরকারিভাবে ক্রয় সম্ভব না হওয়ায় ইসির পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ‘ভিন্নভাবে ব্যবস্থা করতে’ অনুরোধ জানানো হয়। বাকি ১৪ হাজার ২৬৩টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সরকারি বরাদ্দকৃত সিসিটিভি ক্যামেরা ক্রয়ের জন্য স্থানীয় সরকারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের পর সরকারিভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে কেনার জন্য পর্যাপ্ত সময় না থাকায় তাদের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে প্রয়োজনে রিটার্নিং কর্মকর্তারাও সিসিটিভি ক্যামেরা ক্রয় করতে পারেন।
যেসব কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়নি, সেসব কেন্দ্রের জন্য আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) বলেছি— তারা যদি স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করতে পারেন, তাহলে সকল কেন্দ্রেই সিসিটিভি লাগানোর কথা— বিএম কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), কুড়িগ্রাম
সকল কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নাও হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বলেন, নির্দেশনা থাকলেও সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নাও হতে পারে। কারণ ইলেক্ট্রিসিটিসহ অনেকগুলো বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। অনেক ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নেই। এসব কারণে কিছু কেন্দ্র ক্যামেরার আওতায় হয়ত আসবে না। তবে আমাদের পক্ষ থেকে সম্ভব হলে সব কেন্দ্রে স্থাপনের জন্য নির্দেশনা রয়েছে।
একাধিক রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সরকারের দেওয়া এসব সরঞ্জামের বাইরে বাকি কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি স্থাপনের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের নিজস্ব অথবা বিভিন্ন সময়ে দেওয়া অন্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে পাওয়া ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এ নির্বাচনে। তবে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা করা না গেলে সকল কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপন সম্ভব হচ্ছে না।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিএম কুদরত-এ-খুদা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, জেলার ৩৮৬টা কেন্দ্রের জন্য সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে বেশিরভাগই স্থাপন হয়েছে। কিছু ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র— যেগুলোতে চুরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোতে কিনে রেখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যেসব কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়নি, সেসব কেন্দ্রের জন্য আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) বলেছি— তারা যদি স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করতে পারেন, তাহলে সকল কেন্দ্রেই সিসিটিভি লাগানোর কথা।
সারা দেশে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। পরে ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে তার বাসভবন যমুনায় নিকারের ১১৯তম সভায় ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার ৯৪৬টি কেন্দ্রের জন্য সিসিটিভি ক্রয়ে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই বরাদ্দ অনুযায়ী, কেন্দ্রগুলোতে ৬টি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আনোয়ার সাদাত জানান, জেলার মোট ২০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ইতোমধ্যে ১২৪টিতেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। অপর কেন্দ্রগুলোতে স্থাপনের কাজ চলছে। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ বড় অংশ সরবরাহ করলেও ওনারা শতভাগ দিতে পারেন নাই। বাকিটা আমরা বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করেছি। যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ম্যানেজমেন্ট থেকেও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মো. বাতেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জেলার ৫৪৭টি কেন্দ্রে শতভাগ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের টার্গেট রয়েছে। এর মধ্যে দু’দিন আগেই অতি-ঝুঁকিপূর্ণ ১৮৬ ও ঝুঁকিপূর্ণ ২২৩টি কেন্দ্রে ৯০ ভাগ স্থাপন সম্পন্ন হয়েছিল। আজকে সবগুলোতে ক্যামেরা স্থাপন শেষ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে শতভাগ সিসিটিভি স্থাপনের জন্য নির্দেশনা আছে। তবে স্থানীয় সরকার কেবল ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর জন্য দিয়েছে, সাধারণ কেন্দ্রগুলোর জন্য সরকার বরাদ্দ দেয়নি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আমাদেরকে কিছু বাজেট দেয়, সেখান থেকেও আমরা সিসিটিভি নিচ্ছি। নিয়মের মধ্যে থেকেই সব কাজ করার চেষ্টা করছি। আজকের মধ্যে এসব কেন্দ্রও সিসিটিভির আওতায় চলে আসবে।