আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করায় তীব্র প্রতিবাদ জানাল বাংলাদেশ

২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২০ AM
রোহিঙ্গা ক্যাম্প

রোহিঙ্গা ক্যাম্প © সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলায় রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করে মিয়ানমারের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৬-১৭ সালের জাতিগত নির্মূল অভিযানকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান হিসেবে জায়েজ করতে এবং বিশ্ববাসীর নজর ঘুরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় বিকৃত করছে মিয়ানমার বলে অভিযোগ জানিয়েছে বাংলাদেশ। 

শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়, যার আগে গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রাথমিক আপত্তি তোলে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিত্রায়িত করার মাধ্যমে মিয়ানমার তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ ও ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি’ হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছে। এর মাধ্যমে তারা তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ বা শুদ্ধি অভিযানকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ একে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছে।’ 

সরকার স্পষ্ট করেছে যে, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী যারা ১৭৮৫ সালে বর্মণ রাজ্যের অংশ হওয়ার আগেও শতাব্দী ধরে আরাকানে বিকশিত হয়েছিল। তাদের উপস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের রোশাং বা রোহাং এবং বৃহত্তর বাংলায় তাদের নামে পরিচিতি ছিল, যা মূলত একটি বহির্নামের ঘটনা। ঐতিহাসিক দলিল ও গবেষণায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ থাকায় তাদের বিদেশি বা সাম্প্রতিক অভিবাসী হিসেবে মিয়ানমারের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে, ‘১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন জারির আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে কোণঠাসা করা হলেও তারা ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত ভোটাধিকার ভোগ করেছে।’ 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রোহিঙ্গাদের পদ্ধতিগতভাবে ‘বাঙালি’ বলে ডাকার উদ্দেশ্য হলো তাদের নিজস্ব পরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করা এবং জাতিগত নিধনের প্রেক্ষাপট তৈরি করা। যদিও রোহিঙ্গাদের ভাষায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপভাষার সঙ্গে কিছু মিল রয়েছে, কিন্তু সংস্কৃতি ও পরিচয়ের দিক থেকে তারা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।’

বিজ্ঞপ্তিতে মিয়ানমারকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, ‘১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘বার্মার আইনানুগ বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।’ত

২০১৭-১৮ সালেও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নেপিডো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও গত আট বছরে তারা রাখাইনে কোনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেনি। এই নিষ্ক্রিয়তা রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে বাংলাদেশ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এ ছাড়া ১৯৭১ সালে ৫ লাখ বাংলাদেশির রাখাইনে আশ্রয় নেওয়ার দাবিকে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে সরকার মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।


 

এআইয়ের লাগাম টানতে আহ্বান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহীর, এ…
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পানি জমলেই বাড়ে এডিসের বংশবৃদ্ধির ঝুঁকি, ডেঙ্গু থেকে নিরাপদ…
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাবির শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইটে রিভিউ দেখা বন্ধ, নেপথ্যে য…
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চিকিৎসকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা বিএমডিসির
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ক্লদ দিয়ে যুদ্ধ, গুপ্তচরবৃত্তি ও প্রতারণা—উঠে এলো ভয়ংকর তথ্য
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাবির এক শিক্ষকের পড়ানোকে বিটিভির খবরের সাথে তুলনা করতাম, ত…
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9