৮ম পে কমিশনের প্রতিবেদন জমার কত মাস পর গেজেট হয়েছিল? 

২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৯ PM
পে স্কেল

পে স্কেল © সংগৃহীত

নবম জাতীয় বেতন কমিশন নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ আগেই ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন পেশ করেছে। ২৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে। অপেক্ষা এখন বাস্তবায়নের।

অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, পে স্কেল ঘোষণার পর তা কার্যকরে একটি নির্দিষ্ট সময় লাগে, এমনটাই দেখা গেছে অষ্টম পে স্কেলের ক্ষেত্রে। তথ্যমতে, অষ্টম জাতীয় পে স্কেলের সুপারিশ প্রতিবেদন পে কমিশন ২০১৫ সালের ১৩ মে জমা দেয়। এরপর প্রায় ৭ মাস ২০ দিন পর বিজয়ের আগের দিন তথা ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তা কার্যকর হয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের তরফ থেকে। যদিও ওই পে স্কেল কার্যকর হয়েছিল প্রতিবেদন প্রকাশে দেড় মাস পর তথা ১ জুলাই ২০১৫ থেকেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বেতন ও চাকরির ওই কমিশন ১৬টি ধাপে বেতন দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কমিশনের সুপারিশ ছিল সর্বোচ্চ ধাপে ৮০ হাজার টাকা ও সর্বনিম্ন ধাপে ৮ হাজার ২০০ টাকা। যদিও গেজেট প্রকাশকালে তা কিছুটা পরিবর্তন হয়ে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ নির্ধারণ করা হয়।

প্রতিবেদন ও গেজেট কার্যকরের পর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জানিয়েছিলেন, ‘নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর ১ জুলাই থেকে। চাকরিজীবীরা ডিসেম্বর ২০১৫-এর বেতন নতুন কাঠামোতে পাবেন। এর সঙ্গে তাঁরা পাঁচ মাসের বকেয়া বেতনের অর্ধেক পাবেন। বেতনের বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে তাঁদের জানুয়ারির বেতনের সঙ্গে। আর ভাতা দেওয়া হবে ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে।’ সে সময় অর্থমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ‘সবচেয়ে বেশি মাথাব্যথা ছিল যারা কম বেতনে চাকরি করেন, তাদের জন্য। সেটা বিবেচনায় নিয়ে বেতনকাঠামো করার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।’

এদিকে নবম পে স্কেলের প্রতিবেদন ঘোষণার পর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অষ্টম পে স্কেলের মত নবম পে স্কেল ঘোষণার পরও সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা, আগের তুলনায় এবার দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন পে স্কেল কার্যকর করা হবে।

প্রস্তাবিত নতুন বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন হবে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১,৬০,০০০ টাকা এবং অনুপাত ১:৮। প্রথম বেতন কমিশনে (১৯৭৩) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন অনুপাত যেখানে ছিল ১:১৫.৪; সেখানে পূর্ববর্তী অর্থাৎ সর্বশেষ বেতন কমিশনে (২০১৫) তা ছিল ১:৯.৪। বর্তমান জাতীয় বেতন কমিশন (২০২৫) বিগত সময় থেকে অনেক কম অনুপাত (১:৮) সুপারিশ করছে; যা সর্বকালের মধ্যে সর্বনিম্ন।

তথ্যমতে, গত ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর এই কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ তারিখ ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। কমিশন তাদের জন্য নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ও শিক্ষার নতুন ভাবনা
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
হৃদ্যতাপূর্ণ বার্তা প্রেরণে চিঠির যুগ; আধুনিকতায় হারিয়ে যাচ…
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
‘সরকার ঋণ বাড়িয়ে শুধু পাবলিক সেক্টরের কর্মীদের সুবিধা দিচ…
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
রাবি প্রেসক্লাবের পিঠা উৎসবে সাংবাদিকদের মিলনমেলা
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে তিন বছরের শিশুকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬