প্রতীকী অনশন © সংগৃহীত
বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন সরকারি কর্মচারীরা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে দেশের ৬৪টি জেলার প্রেসক্লাব চত্বরেও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা এই অনশন পালন করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব মো. ওয়ারেছ আলী, মুখ্য সমস্তয়ক, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ, স্বগত বক্তব্য রাখেন জনাব মো. মাহমুদুল হাসান, সমন্বয়ক, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। উপস্থিত জোটভুক্ত সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ৭ দখন দাবির ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং ১ জানুয়ারি থেকে তা বাস্তবায়নের দাবিতে বক্তব্য রাখেন।
অনশন কর্মসূচিতে জেটিভুক্ত উল্লেখিত সংগঠনাসমূহের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচার বলাণ সমিতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশন, ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকুরিজীবী ফোরাম, বাংলাদেশ আন্ত বিশ্ব বিদ্যালয় কর্মচারি ফেডারেশন, ১৭-২০ সরকারি কর্মচারি সমিতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণী সরকারি সমিতি, বাংলাদেশ সরকারি গাড়ী গণক সমিতি, বাংলাদেশ ডাক কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ পোস্ট অফিস কর্মচারী ইউনিয়ন, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি উন্নয়ন পরিষদ, এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোট, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ, পৌর কর্মচারী ফেডারেশন, পরমাণু শক্তি কমিশন কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্মচারী ইউনিয়ন, মশক নিবারণী অধিদপ্তর, শিল্পকলা একাডেমি কর্মচারী ইউনিয়ন, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী ইউনিয়ন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কর্মচারী পরিষদ।
প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ, বাংলাদেশ রেলওয়ে এমন্দ্রীয়জ লীগ, বাংলাদেশ ফুড এমস্ট্রীয়জ এসোসিয়েশন, এমপিও ভূক্ত কর্মচারী ঐক্য জোট, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্মচারী সমিতি, বিএমইটি কর্মচারী সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়ন, আন্ত: বিশ্ববিদ্যালয় গাড়ী চালক ফেডারেশন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্মচারী সমিতি ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট কর্মকর্তা কামচারী কল্যাণ সমিতি কর্মসূচিতে সকল নেতৃবৃন্দ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সহমত পোষণ করে বক্তব্য রাখেন।
সমন্বয়কবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, আমরা দীর্ঘ ৭ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের নিমিত্ত বিভিন্ন আন্দোলন করে। আসছি কিন্তু সরকার এগুলো আমলে নিচ্ছে না। ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ এর লক্ষাধিক কর্মচারীর উপস্থিতিতে মহাসমাবেশের পর আমরা আশা করেছিলাম ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে সরকার পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করবেন। কিন্তু সরকার পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করেনি এমনকি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে কোন আলোচনাও করেননি। সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আমরাও মানুষ, ক্ষুধার আলা কোন আইন মানে না। কর্মচারিরা ধৈর্যহীন হয়ে পড়লে কোন আইন দিয়ে এদের বেঁধে রাখা যাবে না।
এছাড়াও, একই তারিখ সময়ে দেশের ৬৪টি জেলার সকল সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সেক্টর ও কর্পোরেশনের সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারির তাদের নিজ জেলার প্রেসক্লাবে উপস্থিত থেকে উক্ত কর্মসূচি পালন করবেন
নিম্নরুপ বিষয় বিবেচনায় ৯ম পে-স্কেল বান্ধবায়ন করতে হবে।
১. ১৪ এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন-স্কেল ৩৫০০০/- ও সর্বোচ্চ ১৪০০০০/- টাকায় নির্ধারণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ম পে-ছেলের গেজেট ভারী করতে হবে এবং জানুয়ারি ২০০২৬ থেকে ৯ম পে-স্কেল কার্যকর করতে হবে।
২. ২০১৫ সালে পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত ৩টি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পূণর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনঃবহল এবং ও সকল স্বায়তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচ্যুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান প্রাযুয়িটি/আনুতোষিকের হার ৯০% এর স্থলে ১০০% নির্ধারণ ও পেনশন গ্রাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
৩. ব্লক পোষ্টে কর্মরত কর্মচারিসহ সকল পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে, এছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কময়চারিদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দিতে হবে।