ম্যানেজার সামিদ কাশেম ও টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর সাইফুল বারী টিটু © সংগৃহীত
এএফসি অ-২০ টুর্নামেন্টের বাছাইপর্ব খেলতে রাতে উজবেকিস্তানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ অ-২০ ফুটবল দল। সাধারণত বিদেশ সফরের আগে বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে কোচ ও অধিনায়কের উপস্থিতি অলিখিত রীতিতে পরিণত হয়েছে। তবে এবার ব্যতিক্রম ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেম ও টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর সাইফুল বারী টিটু। কোচ-অধিনায়ক কিংবা কোনো খেলোয়াড় না থাকায় শুরু থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়েন ম্যানেজার।
পরিস্থিতি ব্যাখ্যায় সামিদ কাশেম বলেন, 'উজবেকিস্তানে সরাসরি ফ্লাইট নেই তাই আমাদের দল আজ একাধিক গ্রুপে যাচ্ছে। কোচ-খেলোয়াড়দের মনোযোগ যেন বিঘ্ন না ঘটে এজন্য তারা নেই। এটা আমাদের সাধারণ রীতি নয়, এজন্য ম্যানেজার হিসেবে আমি দুঃখিত।'
সম্প্রতি অ-২০ দলের দুই কোচ ব্রিটিশ জেরার্ড জোন্স ও আতিকুর রহমান মিশুর হাতাহাতির ঘটনা নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়। ঘটনার একদিন পর জেরার্ড হোটেলে পুলিশ ডাকেন। এরপর থেকেই দুই কোচের মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট। তারপরও উজবেকিস্তান সফরে যাচ্ছেন তারা। এ নিয়ে সামিদ কাশেমের দাবি, এখন সবকিছু স্বাভাবিক। তার ভাষায়, 'এখন ক্যাম্পে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সবাই এখন ভালো মুডে রয়েছে।'
গত বুধবার হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও সফরের আগে কেন এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত শেষ করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, এমন প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হয় ম্যানেজারকে। এ নিয়ে ম্যানেজারের উত্তর, 'সফরের আগে আমরা এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি, যেন দলে প্রভাব না পড়ে। তাছাড়া তথ্য পেতেও দেরি হয়েছে।'
অ-২০ দলের কোচিং নিয়ে সমস্যার শুরু অবশ্য আরও আগে। সাফ টুর্নামেন্টেও ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্সের সার্টিফিকেট নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এরপর আরেক ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্সকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তার আচরণ নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠেছে। দুই কোচের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই যুক্ত ছিলেন সামিদ কাশেম। এবার তিনিই দলের ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকায় ক্যাম্পের সামগ্রিক পরিস্থিতির দায়ও তার ওপর বর্তায়। দুই কোচের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজার হিসেবে নিজের আংশিক দায়ও স্বীকার করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এএফসি অ-২০ বাছাইপর্বে ৮ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও সেরা ৭ রানারআপ দল পরের পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। সেই লক্ষ্যেই উজবেকিস্তান সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশের অ-২০ দল। তবে মাঠের লড়াইয়ের আগে কোচিং স্টাফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলোই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।