গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন আমিনুল হক © সংগৃহীত
গত কয়েকদিন ধরেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ব্রাজিলের বাংলাদেশ সফর। বাংলাদেশে এসে জাতীয় দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ভাবতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে)। তবে এমন বড় আয়োজন বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগিতা ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাফুফের এক সদস্য।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নিজেও ব্রাজিলের সমর্থক। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বক্সিং কোচিং কোর্সের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে কথা হয়েছে। ব্যয় ও আনুষাঙ্গিক বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়নি। আলোচনা হলে চেষ্টা করব বাস্তবায়নের।’
বাংলাদেশে ব্রাজিলের বিপুলসংখ্যক সমর্থক থাকায় দেশটির জাতীয় দলের আগমন নিঃসন্দেহে ইতিবাচক খবর। তবে ব্রাজিলকে ঢাকায় এনে ম্যাচ আয়োজন করতে বাফুফেকে গুনতে হতে পারে কোটি কোটি টাকা। এত বড় ব্যয়ে একটি ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ফুটবলের প্রকৃত উন্নয়ন কতটা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই প্রশ্নের জায়গায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীরও রয়েছে সংশয়।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচ হলে বাংলাদেশ ফুটবল কতটুকু আগাবে, এ নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী না। বাংলাদেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সঙ্গে খেললে আশা বা স্বপ্নপূরণ হবে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার যেমন বিপুল সমর্থন সেখান থেকে বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচ হলে সমর্থকদের ইচ্ছে পূরণ হবে, কিন্তু বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচের পর যে ফুটবলে পরিবর্তন আসবে এই বিষয়ের সঙ্গে আমি একমত না।’
২০১১ সালে ঢাকায় আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার মধ্যকার প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করেছিল বাফুফে। সেই ম্যাচের আর্থিক দায়ের বোঝা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এবার নানা সীমাবদ্ধতা, আর্থিক বাস্তবতা ও পারিপার্শ্বিক চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত যদি বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হয়, সেটিকে দেশের ফুটবলের জন্য মাইলফলক হিসেবেই দেখছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল হক বলেন, ‘বিষয়টি এখনো বেশ প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। বাফুফে ব্রাজিল প্রতিনিধি দলকে ভেন্যু দেখিয়েছে। এই বিষয়ে আমাদের সারাংশ জানাবে। ব্রাজিল যদি আসে, আমাদের বাংলাদেশের সঙ্গে খেলে সেটা অবশ্যই অনেক বড় অ্যাচিভমেন্ট (অর্জন) হবে।’
নিজেদের পাইপলাইন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যে ফুটবল অবকাঠামো সমস্যা রয়েছে। ফেডারেশন কাজ করছে আমরাও সহায়তা করছি। নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে ফুটবলসহ অন্য খেলাতেও প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তুলে আনার চেষ্টা চলছে।’