লিওনেল মেসি © সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে গোটা দলকে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। পুরো আর্জেন্টিনা দলের ছবি পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবিতে সব ফুটবলার, সাপোর্ট স্টাফ ছাড়াও দলের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক সদস্য রয়েছেন।
এ বারের ফাইনাল মেসির কাছে আলাদা। প্রথমত, খেতাব ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয়ত, লড়াই স্পেনের বিরুদ্ধে। যে দেশে তিনি ফুটবলার হিসাবে বেড়ে উঠেছেন। বুয়েনস আয়ার্স মতো বার্সেলোনাতেও বাড়ি রয়েছে তাঁর। এমন এক বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মেসি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন সতীর্থদের। আর্জেন্টিনার একতা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে সম্ভবত বিদায়ের ইঙ্গিতও দিতে চেয়েছেন।
সমাজমাধ্যমে সকলের ছবি পোস্ট করে লিও লিখেছেন, ‘একটা পরিবার। গত কিছু বছরে কয়েকটা খেতাব জয়ই শুধু নয়, পুরো যাত্রা পথটাই ছিল অসাধারণ। এই দলের সঙ্গে প্রতিদিনের পথ চলা, একসঙ্গে লড়াই করা, কঠিন মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো সবকিছুই। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি আমরা। আমার প্রত্যেক সতীর্থ, দলের সব টেকনিক্যাল স্টাফ এবং সেই সমস্ত মানুষকে ধন্যবাদ, যাঁরা আমাদের জাতীয় দলকে পরিবারের মতো ধরে রাখতে প্রতিদিন পরিশ্রম করেন। রবিবার যাই হোক না কেন, এই দলটা এমন একটা গল্প লিখে ফেলেছে, যেটা আমরা কখনও ভুলব না। গল্পটা কেউ মুছে দিতেও পারবে না।’
ফাইনালের আগে দলকে উদ্বুদ্ধ করে লিও আরও লিখেছেন, ‘চলো আর্জেন্টিনা। আমরা ইতিমধ্যেই বিশেষ কিছুর সাক্ষী হয়েছি। সেমিফাইনালে জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠার মুহূর্ত থেকেই আমরা অনুভব করতে পারছিলাম। জানি, সমর্থকেরা যে কোনও ম্যাচের থেকে বেশি ওই ম্যাচ জিততে চেয়েছিল। প্রথমত, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল। দ্বিতীয়ত, জিততে পারলে আরও একটা বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর তাৎপর্য অপরিসীম। আমি জানি আর্জেন্টিনার মানুষ কতটা খুশি হয়েছেন। আমার মা, পরিবারের অন্যেরা আমাকে মানুষের উদ্যাপনের ছবি পাঠিয়েছেন। আর্জেন্টিনাবাসীকে এই আনন্দটা দিতে পেরে আমি খুশি এবং গর্বিত।’
বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে মেসি বলেছেন, ‘এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। কঠোর অনুশীলন করেছি। নিজেকে শারীরিক ভাবে সর্বোচ্চ জায়গায় রাখতে সর্বস্ব দিয়েছি। এই মুহূর্তে শুধু উপভোগ করতে চাই। গত বিশ্বকাপ জয় বা অন্য কোনও ট্রফির কথা বলছি না। এই দল সব সময় নিজেদের সেরাটাই দেয়। এই দল কারও কাছে ঋণী নয়। আমাদের এই দল কখনও চেষ্টা করা বন্ধ করে দেয় না। আমরা আমাদের ফুটবল এবং দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা আরও একটা বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছি।’