মেসি ও ইয়ামাল © সংগৃহীত
আজ রাতে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে শতভাগ জয়ের দুর্দান্ত রেকর্ড থাকলেও ফাইনালের মঞ্চে এলেই যেন এক অচেনা আর্জেন্টিনাকে দেখা যায়। বিশ্বমঞ্চে এখন পর্যন্ত ছয়টি ফাইনাল খেলে তিনটিতেই রানার্সআপ হতে হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের, যা ফাইনালে যৌথভাবে সর্বোচ্চ হারের রেকর্ড। অবশ্য অন্য তিনটিতে শেষ হাসি হেসেছে তারা।
এবার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সপ্তম ফাইনালে পা রেখেছে লিওনেল স্কালোনির দল। অন্যদিকে ইউরোপিয়ান পরাশক্তি স্পেনের সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। ২০১০ সালে নিজেদের ফাইনালে উঠেই প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছিল তারা।
মারিও কেম্পেস, দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে আধুনিক ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি—প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিশ্বমঞ্চে আকাশি-সাদা জার্সির দাপট বজায় রেখেছেন। তবে অতীতের তিন ফাইনালের কান্না ভুলে এবার স্পেনের ‘টিকিটাকা’ ফুটবলকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের নতুন এক ফুটবলীয় সাম্রাজ্য গড়ে তোলাই আর্জেন্টিনার মূল লক্ষ্য।
১৯৩০ বিশ্বকাপ (উরুগুয়ে)
ইতিহাসের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমার্ধে পিউসেলে ও স্তাবিলের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে দ্বিতীয় আর্ধে স্বাগতিক উরুগুয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-২ গোলে ম্যাচ জিতে নেয়। সেবার ৫ ম্যাচের ৪টিতে জিতে রানার্সআপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে।
১৯৭৮ বিশ্বকাপ (আর্জেন্টিনা)
নিজেদের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করে আলবিসেলেস্তেরা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে মারিও কেম্পেসের জোড়া গোল এবং বার্তোনির গোলে ৩-১ ব্যবধানে হল্যান্ডকে হারায় তারা। টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচের ৫টিতে জয় পায় স্বাগতিকরা।
১৯৮৬ বিশ্বকাপ (মেক্সিকো)
এটি ছিল দিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ। ফাইনালে নিজে গোল না করলেও বুরুচাগার জয়সূচক গোলে দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট করেন তিনি। ব্রাউন, ভালদানো ও বুরুচাগার গোলে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জেতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
১৯৯০ বিশ্বকাপ (ইতালি)
ম্যারাডোনার নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠলেও মেক্সিকোর প্রতিশোধ নেয় জার্মানি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে একটি বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে ব্রেহমের একমাত্র গোলে শিরোপা হারায় ৯ জনের আর্জেন্টিনা।
২০১৪ বিশ্বকাপ (ব্রাজিল)
এটি ছিল লিওনেল মেসির প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল। গঞ্জালো হিগুয়েইনের একাধিক সহজ সুযোগ হাতছাড়া এবং অতিরিক্ত সময়ের ১১৩ মিনিটে জার্মানির মারিও গোটজার জাদুকরী গোল আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে দেয়। মেসি টুর্নামেন্ট সেরা হিসেবে গোল্ডেন বল জিতলেও ট্রফি অধরাই থাকে।
২০২২ বিশ্বকাপ (কাতার)
ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফাইনালে মেসির জোড়া গোল ও কিলিয়ান এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে অতিরিক্ত সময় শেষে খেলা ৩-৩ সমতায় থাকে। পরে পেনাল্টি শুটআউটে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বীরত্বে ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা।
২০২৬ বিশ্বকাপ (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো)
লিওনেল স্কালোনির অধীনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে জিততে পারলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের ৬৪ বছরের পুরনো রেকর্ড স্পর্শ করবে আর্জেন্টিনা, আর তাদের জার্সিতে যুক্ত হবে চতুর্থ তারকা।