ভিএআর বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলল ফিফা

০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ PM
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো © সংগৃহীত

চলতি ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান তুমুল সমালোচনার মধ্যে অবশেষে মুখ খুলেছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করার পর ভিএআর (VAR) দলের কোনো ‘ইচ্ছাকৃত পক্ষপাতিত্বের’ বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ তিনি পাননি।

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ফুটবলের সঙ্গে তার সম্পর্ক কয়েক দশকের। রেফারিং, প্রতিযোগিতা পরিচালনা এবং খেলার আইন নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি জানেন, কোনো সিদ্ধান্ত যখন বিশ্বজুড়ে এমন তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়, তখন সেটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা তার দায়িত্বের অংশ।

তিনি জানান, বিতর্কিত সেই ঘটনাটি তিনি একবার বা দু’বার নয়, দশবারেরও বেশি সময় ধরে এবং প্রতিটি ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল থামিয়ে থামিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। এমনকি ম্যাচ কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত ভিএআর-এর ভেতরের অডিও যোগাযোগ এবং বিভিন্ন রিপ্লেও খতিয়ে দেখেছেন। ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমি এটি করেছি কারণ ফুটবলে মতামতের চেয়ে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি; আর্জেন্টিনা বা মিশরের নাম জড়িয়ে আছে বলে নয়।’

ফিফা সভাপতি স্পষ্ট করেন, পর্যালোচনার পর তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হলো—ভিএআর দল ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে সমর্থকদের প্রশ্ন তোলার অধিকার নেই। তার মতে, ‘মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারে, দ্বিমত পোষণ করতেই পারে। সেটাই ফুটবলের সৌন্দর্য। কিন্তু মতবিরোধ মানেই ষড়যন্ত্র, এমন ধারণা একেবারেই সঠিক নয়।’

ইনফান্তিনো মনে করিয়ে দেন, ভিএআর প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে অন ফিল্ড রেফারিদের স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুলগুলো কমানোর জন্য, ফুটবল থেকে মানুষের আবেগ বা সব ধরনের বিতর্ক চিরতরে দূর করার জন্য নয়। কারণ এই খেলায় এমন অনেক সূক্ষ্ম মুহূর্ত থাকে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করে রেফারির তাৎক্ষণিক বিচার-বিবেচনার ওপর।

মিশর ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বিপরীতমুখী অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি কেন মিশরের সমর্থকেরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। একই সঙ্গে এটাও বুঝতে পারছি কেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা মনে করছেন সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল। এই দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে যে মাঠের ওই পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন ছিল।’

ফিফা সভাপতির মতে, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার কাজ কোনো একটি বিশেষ দেশের সমর্থকদের সন্তুষ্ট করা নয়; বরং খেলার আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে, ধারাবাহিকভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

বিবৃতির শেষে তিনি রেফারিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘রেফারিং বিভাগ যদি মনে করে কোনো ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তবে এই ম্যাচের প্রতিটি বিতর্কিত ঘটনা আলাদাভাবে পুনঃমূল্যায়ন করা হবে। কোনো রেফারি পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে নন, কোনো সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণের বাইরে নয়। এভাবেই ফুটবল প্রতিনিয়ত আরও উন্নত হয়।’

তিনি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের গুজবে কান না দিয়ে ফুটবলের সততা ও স্বচ্ছতার প্রতি আস্থা অটুট রাখার আহ্বান জানান।

এনআরবি ব্যাংকে হেড অব ইন্টারনাল অডিট পদে নিয়োগ
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
দাখিলের কোন কোন খাতা পুনঃমূল্যায়ন হবে, ৮৩৩ পৃষ্ঠার তালিকা প…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
কৃষির উৎকর্ষ বাড়াতে বাকৃবি কাজ করে যাচ্ছে: উপাচার্য
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
স্কুলের খাবারে লবণের পরিবর্তে ডিটারজেন্ট, হাসপাতালে ভর্তি ৪…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রতি আসনে হচ্ছে ছেলে-মেয়েদের আলাদা আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
আইএবির স্বীকৃতি পেল রুয়েটের স্থাপত্য বিভাগ
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬