মিশরের কোচ হোসাম হাসান © সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো এবং সেই জয় ফিলিস্তিনিদের উৎসর্গ করায় মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে নিষেধাজ্ঞার নালিশ দেওয়া হয়েছে। ফিফার শৃঙ্খলা বিধি ভঙ্গের অভিযোগ এনে তাকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হলেও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা তা সাফ খারিজ করে দিয়েছে।
অবশ্য ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করায় টুর্নামেন্টের কোনো নিয়ম ভঙ্গ হয়নি। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফার ২১১টি স্বীকৃত সদস্য দেশের একটি। আর ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, সদস্যভুক্ত যেকোনো দেশের জাতীয় পতাকা মাঠে বা স্টেডিয়ামে প্রদর্শন করার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। ফলে হোসাম হাসানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বা বিষয়টি খতিয়ে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে ফিফার কাছে নালিশ যাওয়ার পর ফিলিস্তিনের পক্ষে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছেন মিশরীয় কোচ হোসাম হাসান। নকআউট পর্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অত্যন্ত আবেগঘন ও কড়া ভাষায় ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনবাসীর এই অবর্ণনীয় দুর্দশা ও কষ্ট যদি কেউ নিজের হৃদয়ে অনুভব করতে না পারেন, তবে তিনি মানুষই নন—হোক তিনি আরব, ইউরোপীয় কিংবা আমেরিকান।’
বিশ্বের দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে হোসাম হাসান আরও বলেন, ‘ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যদি সামান্য একটা প্রাণীর গায়েও আঘাত লাগে, তবে আমরা দেখি প্রাণী অধিকার রক্ষাকারীরা কতটা সোচ্চার হন, পুরো বিশ্ব তাদের সমর্থন করে। অথচ গাজায় বা ফিলিস্তিনে প্রতিদিন একটা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই-তিন হাজার মানুষের মৃত্যু আজ যেন খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়ে পরিণত হয়েছে!’
বিশ্বকাপের মঞ্চকে মানবতার বার্তা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে মিশরের এই সাবেক তারকা ফুটবলার বলেন, ‘সবকিছুর ঊর্ধ্বে আমি নিজেকে একজন মানুষ মনে করি। ফিফার মূল স্লোগান যেমন আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ শেখায়, ঠিক তেমনি ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে আমার একটাই বার্তা থাকবে—ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের শান্তিতে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারটুকু যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’