ফ্রান্স-সুইডেন ম্যাচ © সংগৃহীত
কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল এবং ম্যাচজুড়ে দাপুটে পারফরম্যান্সে সুইডেনকে ৩–০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। এই জয়ে নকআউট পর্বে আরও একধাপ এগিয়ে গেল দিদিয়ের দেশমের দল। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আগামী শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় শেষ ষোলো ম্যাচে নামবে তারা।
ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ক্রসওভার স্টেপে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। বিরতির পর ৫৩তম মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন, মাইকেল ওলিসের পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোলটি আসে। এরপর ৭৪তম মিনিটে আবারও গোল করেন এমবাপ্পে, ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে স্কোরলাইন ৩–০ নিশ্চিত করেন।
চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের তৃতীয় জোড়া গোলের ম্যাচ এটি। এই জোড়া গোলে এবারের টুর্নামেন্টে মোট ৬ গোলে পৌঁছে গেলেন। এতে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষ গোলদাতার অবস্থান ভাগ করছেন ফরাসি অধিনায়ক।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে এমবাপ্পের গোল সংখ্যা ১৮–তে দাঁড়িয়েছে, এতে মেসির ১৯ গোলের রেকর্ডের ঠিক একধাপ পিছনেই আছেন তিনি। এ ছাড়া নকআউট পর্বে তার গোল এখন ১০টি, এতে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি লিওনিদাস ও রোনালদোর আগের সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছেন এমবাপ্পে।
ঢিমেতালে শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথম দিকেই একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোল পেতে ব্যর্থ হয় ফ্রান্স। ১৬তম মিনিটে প্রথম পরিষ্কার সুযোগ পান কিলিয়ান এমবাপ্পে, তবে তার শট চলে যায় গোলকিপারের দিকেই। এরপর ২০তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে জাল কাঁপালেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয় ফরাসি অধিনায়কের গোল।
৩২তম মিনিটে জুলস কুন্দের কাটব্যাক থেকে দারুণ সুযোগ পান এমবাপ্পে, কিন্তু তার শট বার পোস্টে লেগে ফিরে আসে। চার মিনিট পর ডি-বক্সের সামনে থেকে মাইকেল ওলিসের ওভারহেড কিকও পোস্টে লেগে গোলবঞ্চিত করে ফ্রান্সকে। ফিরতি বল থেকে ওসমান দেম্বেলের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
বারবার সুযোগ হাতছাড়া করার পর অবশেষে ৪৫তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ছোট কর্নারের পর দেম্বেলের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁকানো শটে দূরের পোস্টে বল পাঠান এমবাপ্পে। এতে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে সুইডেনও সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। অ্যান্থনি এলাঙ্গার কাটব্যাক থেকে এলিয়ট স্ট্রাউড ফাঁকায় বল পেলেও অবিশ্বাস্যভাবে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তিনি।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ অব্যাহত রাখে ফ্রান্স। ৫৩তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের অ্যাসিস্টে গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা, ব্যবধান ২–০ করেন তিনি। এরপর ৭৪তম মিনিটে আবারও ওলিসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন এমবাপ্পে।
মাঝে সুইডেনের গোলরক্ষক জেটারস্ট্রম কয়েকটি আক্রমণ রুখে দেন, তবে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের দাপটে ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা। ৮৬তম মিনিটে এমবাপ্পে ও ওলিসকে বদলি করে মাঠ ছাড়লেও ততক্ষণে ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৩–০ ব্যবধানে জিতে নকআউট পর্বে ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ফ্রান্স।