জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচ © সংগৃহীত
মাঠের নিয়ন্ত্রণ কিংবা বল পজিশন—সব দিক থেকে এগিয়ে থেকেও প্রথমার্ধেই চরম বিপর্যয়ে পড়েছে জার্মানি। ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচে জার্মানিকে স্তব্ধ করে দিয়ে ১-০ গোলের চমকপ্রদ লিড নিয়েছে প্যারাগুয়ে। প্রায় ৮০ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখেও প্রতিপক্ষের গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাক আর নিজেদের রক্ষণভাগের জঘন্য ভুলে পিছিয়ে পড়তে হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচের ৪২ মিনিটের মাথায় সেট-পিস থেকে গোলটি হজম করে জার্মানি। একটি কর্নার ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় জার্মান ডিফেন্স। সেখান থেকে বল পেয়ে আবারও আক্রমণ শানায় প্যারাগুয়ে। উইঙ্গার মিগুয়েল আলমিরন ক্রস করার ভঙ্গি করে দারুণ এক রিভার্স পাস বাড়িয়ে দেন ডান প্রান্ত দিয়ে ওভারল্যাপ করে উঠে আসা সতীর্থের উদ্দেশ্যে। সেখান থেকে ভেসে আসা নিখুঁত ক্রসে বক্সের ভেতর ছুটে গিয়ে চমৎকার হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন প্যারাগুয়ের ২১ বছর বয়সী তারকা জুলিও এনসিসো। বিশ্বকাপ নকআউটের ইতিহাসে এটিই প্যারাগুয়ের প্রথম গোল।
গোলটির পেছনে প্যারাগুয়ের চতুরতার চেয়ে জার্মানির রক্ষণাত্মক কঙ্কালরূপই বেশি দায়ী। গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারের একটি দুর্বল পাঞ্চের পর টাচলাইনের পাশে ন্যাথানিয়েল ব্রাউন এবং আলেকসান্ডার পাভলোভিচ অত্যন্ত সহজে পরাস্ত হন। আর বক্সের মাঝখানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে হেড করার সুযোগ পান এনসিসো।
একমাত্র সুযোগেই বাজিমাত করেছে লাতিন আমেরিকার দলটি। গ্যালারিতে থাকা প্যারাগুয়ের সমর্থকেরা উল্লাসে ফেটে পড়েছেন, ডাগআউটের পেছনের দর্শকেরা আনন্দে প্রায় মাঠেই নেমে আসার উপক্রম। অন্যদিকে, প্রথমার্ধেই পিছিয়ে পড়ে মাঠের ভেতরে ও বাইরে তীব্র চাপের মুখে পড়েছে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের শিষ্যরা। এই ম্যাচের জয়ী দল ফিলাডেলফিয়ায় কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের জন্য ফ্রান্স অথবা সুইডেনের মুখোমুখি হবে। মহাবিপদ এড়িয়ে জার্মানি দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।