টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকে ট্রফি জয়ের ফেভারিট হিসেবে জার্মানিকে নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয়নি, আর গ্রুপ পর্বে ইকুয়েডরের কাছে হারই যেন প্রমাণ করে দিল কেন তাদের ওপর বাজি ধরতে ভয় পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। গত দুটি বিশ্বকাপের মতো এবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার চরম শঙ্কা হয়তো জাগেনি, গ্রুপ পর্বের বৈতরণী তারা অনায়াসেই পার করেছে। কিন্তু দলের ভেতর এমন কিছু স্পষ্ট দুর্বলতা রয়ে গেছে যা গ্রুপ পর্বে আইভরি কোস্ট প্রায় ধরে ফেলেছিল, আর ইকুয়েডর তো সেটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েই ম্যাচ জিতে নিল।
দলের অন্যতম বড় সমস্যা লুকিয়ে আছে তাদের অকার্যকর আক্রমণভাগে। ফ্লোরিয়ান ভির্টজ এবং জামাল মুসিয়ালার যে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ড জুটি নিয়ে ফুটবলবিশ্ব রোমাঞ্চিত ছিল, মাঠের খেলায় তা এখনো ক্লিক করেনি। দুজন খেলোয়াড়ের কেউই এখন তাঁদের প্রাইম ফর্মে নেই, যার প্রমাণ আজ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মুসিয়ালাকে বেঞ্চে বসানোর মতো নাগেলসম্যানের এই বড় সিদ্ধান্ত।
পাশাপাশি আলেকসান্ডার পাভলোভিচ এবং ফেলিক্স নমেচার ডাবল-পিভট মিডফিল্ড পজিশন ধরে রেখে বল পাসিং করতে পারলেও, ডিফেন্সকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড্ড দুর্বল। ফলে চার ডিফেন্ডারের ব্যাক-লাইনটি প্রতিপক্ষের সামনে বড্ড অরক্ষিত হয়ে পড়ছে।
রক্ষণভাগই এখন জার্মানির সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। ইনজুরির কারণে নিকো শ্লটারবেকের ছিটকে যাওয়াটা জার্মানির বিল্ড-আপ ফুটবলকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পাসিং সেন্টার-ব্যাক ছিলেন তিনি, যাঁর বাঁ-পায়ের নিখুঁত পাসিং দলগত ভারসাম্য ধরে রাখত। এখন ডান-পায়ের আন্তোনিও রুডিগারকে তাঁর জায়গায় বাঁ-দিকে খেলানোয় রক্ষণভাগ আরও বেশি নড়বড়ে ও অস্থিতিশীল দেখাচ্ছে। নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে টিকে থাকতে হলে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের এই দলকে মাঠের পারফরম্যান্সে আরও অনেক বড় উন্নতি দেখাতে হবে।