ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো © সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় দুই মঞ্চে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোল খরা এখন টানা ১০ ম্যাচের এক দীর্ঘ বৃত্তে রূপ নিয়েছে। তার এই গোলহীন অভিযাত্রার শুরুটা হয়েছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে, আর আজ কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচেও তা অব্যাহত রইল।
ফিফা বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে পর্তুগিজ এই মহাতারকা সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে পর্তুগালের নিজেদের প্রথম ম্যাচে গোলের দেখা পেয়েছিলেন। ঘানার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের সেই উদ্বোধনী ম্যাচে শুরুর একাদশে নেমে ৮৮ মিনিট খেলেছিলেন এবং একটি গোল করেছিলেন। কিন্তু সেই গোলের পর থেকেই বড় টুর্নামেন্টে পর্তুগালের হয়ে তার গোল করা যেন এক অবিশ্বাস্য ধাঁধায় পরিণত হয়েছে।
কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের পরের দুটি ম্যাচে উরুগুয়ে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও গোল করতে ব্যর্থ হন রোনালদো। এরপর নকআউট পর্বেও তার এই গোল খরা কাটেনি। শেষ ১৬-র ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জালের দেখা পাননি এবং কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হেরে যখন পর্তুগাল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়, সেই ম্যাচেও তিনি কোনো গোল করতে পারেননি।
বিশ্বকাপের সেই ব্যর্থতা বজায় ছিল ২০২৪ সালের ইউরো কাপেও। জার্মানির মাটিতে অনুষ্ঠিত সেই ইউরোর গ্রুপ পর্বে চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক এবং জর্জিয়ার রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন তিনি। এরপর নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচে স্লোভেনিয়া এবং ফ্রান্সের বিপক্ষেও পর্তুগালের হয়ে জালের দেখা পাননি রোনালদো।
পরিসংখ্যান বলছে, টানা ১০টি ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো গোলমুখে কম চেষ্টা করেননি। প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যূহে হানা দিয়ে তিনি মোট ৩৩টি শট নিয়েছেন, এর মধ্যে ১১টি শটই ছিল গোলপোস্টের লক্ষ্য বরাবর। তবে লক্ষ্যভেদ করার অনবদ্য দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও এই ১১টি অন-টার্গেট শটের একটিও প্রতিপক্ষের জালের সীমানা খুঁজে পায়নি। বুধবার (১৭ জুন) ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে নিজের সেই খরা কাটানোর সুযোগ থাকলেও, পুরো ম্যাচে নিষ্ফল থেকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দীর্ঘ গোল খরাকে আরও দীর্ঘায়িত করলেন পর্তুগিজ এই কিংবদন্তি।