ভিন্ন মহাদেশের হলেও অস্ট্রেলিয়াকে কেন বিশ্বকাপে এশিয়ার দেশ ধরা হয়?

১৫ জুন ২০২৬, ১১:২১ AM , আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ PM
ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া দল

ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া দল © সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলে অস্ট্রেলিয়াকে এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে দেখা যায়। অনেকের কাছেই বিষয়টি বিস্ময়কর, কারণ ভৌগোলিকভাবে দেশটি এশিয়ার অংশ নয়। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মহাদেশ নির্ধারণ হয় ভৌগোলিক অবস্থানের চেয়ে বেশি ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্যপদের ভিত্তিতে। আর সেই কারণেই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে এশিয়ার দেশ হিসেবে গণ্য হয়। 

অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশনের (ওএফসি) সদস্য ছিল। কিন্তু ওই অঞ্চলে প্রতিযোগিতার মান তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় দেশটির ফুটবল উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। বিশ্বকাপে খেলার জন্য ওশেনিয়ার চ্যাম্পিয়ন দলকে সরাসরি সুযোগ না দিয়ে অন্য মহাদেশের দলের বিপক্ষে প্লে-অফ খেলতে হতো। ফলে শক্তিশালী দল হওয়া সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া একাধিকবার বিশ্বকাপে ওঠার সুযোগ হারায়। 

বিশেষ করে ১৯৮৬, ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়াকে নতুন পথ খুঁজতে বাধ্য করে। একই সঙ্গে ওশেনিয়ার দলগুলোর সঙ্গে ম্যাচগুলো প্রায়ই একতরফা হয়ে যেত। ২০০১ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অস্ট্রেলিয়া আমেরিকান সামোয়াকে ৩১-০ গোলে হারিয়েছিল। এটি এখনও পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড। একই বাছাইপর্বে তারা টোঙ্গাকেও ২২-০ গোলে হারায়। এসব ম্যাচে প্রতিযোগিতার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনে (এএফসি) যোগ দেওয়ার আবেদন করে। ফিফা, এএফসি এবং ওএফসি—তিন পক্ষের সম্মতিতে ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়ান ফুটবল পরিবারের সদস্য হয়ে যায়। এএফসিতে যোগ দেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া শুধু বিশ্বকাপ বাছাইয়েই নয়, এশিয়ান কাপ ও ক্লাব পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলোতেও অংশ নিতে শুরু করে।

আরও পড়ুন : বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় স্বস্তির খবর

দলটি প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলে  ২০০৭ সালে । পরে ২০১৫ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ জিতে ইতিহাস গড়ে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও কাতারের মতো দলের বিপক্ষে নিয়মিত ম্যাচ খেলায় তাদের মানও বেড়েছে।

সাবেক কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডও বলেছেন, ‘এশিয়ায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলকে উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’ এশিয়ান কনফেডারেশনে যোগ দেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ উপস্থিতিও অনেক বেশি নিয়মিত হয়েছে।

২০০৬ সালের পর থেকে দলটি ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিচ্ছে এবং ২০২২ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতেও উঠেছিল। ভৌগোলিকভাবে অস্ট্রেলিয়া এশিয়ার অংশ না হলেও ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী তারা এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য। ফলে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব এবং আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে অস্ট্রেলিয়াকে এশিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী দেশ হিসেবেই ধরা হয়। 

ডিআইইউতে অর্থনীতি বিভাগের রিসার্চ মনোগ্রাফ কর্মশালা
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতা নিহতের অভিযোগ
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর …
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
চুয়েটে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু, মিলবে ২ লাখ …
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
বছরে ৩৭৫০ কোটি টাকা আয় রোনালদোর,মেসির কত?
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
পিএসসিতে আরও চার সদস্য নিয়োগ, সংখ্যা বেড়ে ২০
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬