স্কটল্যান্ড ফুটবলার © সংগৃহীত
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরে স্বপ্নের সূচনা করেছে স্কটল্যান্ড। হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে স্টিভ ক্লার্কের দল। এই জয়ের মাধ্যমে শুধু তিন পয়েন্টই অর্জন করেনি স্কটল্যান্ড, বরং নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পথেও বড় এক ধাপ এগিয়ে গেছে তারা।
শনিবার (১৪ জুন) ম্যাসাচুসেটসের গিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে একমাত্র গোলটি করেন অধিনায়ক জন ম্যাকগিন। তার শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। প্রথমার্ধে পাওয়া সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতিকে সহজ প্রতিপক্ষ মনে করার সুযোগ দেয়নি ক্যারিবীয় দলটি। পুরো ৯০ মিনিটজুড়েই স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের জন্য হুমকি হয়ে ছিল তারা। তবে গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানের দৃঢ়তায় বারবার ব্যর্থ হয় হাইতির আক্রমণভাগ।
দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ড ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল। ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে জন ম্যাকগিন হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিদের সামনে দিয়ে আরেকটি শট নেন, তবে সেটি থেকে গোল আসেনি। ফলে ১-০ গোলের ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়।
এই জয়ের মাধ্যমে নকআউট পর্বে ওঠার দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছে স্কটল্যান্ড। এবারের বিশ্বকাপে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। সে কারণে প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া স্টিভ ক্লার্কের দলের জন্য বড় ইতিবাচক বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনোই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি স্কটল্যান্ড। এবার সেই ইতিহাস বদলানোর স্বপ্ন দেখছে তারা। হাইতির বিপক্ষে জয় সেই লক্ষ্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।
ইউরোপা লিগজয়ী অ্যাস্টন ভিলার অধিনায়ক জন ম্যাকগিন এই গোলের মাধ্যমে নতুন ইতিহাসও গড়েছেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে ক্রেইগ বারলির গোলের পর এই প্রথম কোনো স্কটিশ ফুটবলার বিশ্বকাপে গোল করলেন। তবে গোলটির গুরুত্ব কেবল ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়; এটি স্কটল্যান্ডকে এনে দিয়েছে বহু প্রতীক্ষিত একটি জয়।
আরও পড়ুন: শট বেশি, আক্রমণ বেশি, দাপটও বেশি— জয়টাই শুধু পেল না মরক্কো
হাইতির বিপক্ষে জয়টি স্কটল্যান্ডের জন্য আরও একটি কারণে বিশেষ। ১৯৮২ সালের পর এই প্রথম তারা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে জয় পেল। সেবার জন ওয়ার্কের জোড়া গোলে নিউজিল্যান্ডকে ৫-২ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল স্কটরা।
এরপর ১৯৮৬, ১৯৯০ ও ১৯৯৮—প্রতিটি বিশ্বকাপেই নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছিল স্কটল্যান্ড। ১৯৮৬ সালে ডেনমার্ক, ১৯৯০ সালে কোস্টারিকা এবং ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের কাছে পরাজিত হয়েছিল তারা। ম্যাচের শেষভাগে হাইতির চাপ বাড়লেও নিজেদের বক্সে দারুণ রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা দেখিয়ে জয় ধরে রাখে স্কটল্যান্ড। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওয়া এই জয়কে তাই বিশেষ অর্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এছাড়া আমেরিকা মহাদেশের দলগুলোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের আগের নয়টি ম্যাচে জয়হীন ছিল স্কটল্যান্ড। এর মধ্যে ১৯৯০ সালে কোস্টারিকার বিপক্ষে পরাজয় ছিল কনকাকাফ অঞ্চলের দলের বিপক্ষে তাদের একমাত্র ম্যাচ। সেই হতাশার ইতিহাসও এবার বদলে দিয়েছে তারা।
অন্যদিকে বোস্টনের বাইরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ছিল হাইতির জন্যও বিশেষ। কারণ ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের কোনো দলের বিপক্ষে এটিই ছিল তাদের ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ।
এদিকে ‘সি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করায় তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে স্কটল্যান্ড। এখনও অবশ্য কঠিন দুটি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে স্কটিশদের। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে আফ্রিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মরক্কোর। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে অস্থায়ীভাবে নতুন নাম পাওয়া বোস্টন স্টেডিয়ামে।
এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ামিতে স্কটল্যান্ড খেলবে গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল এবং শিরোপার অন্যতম দাবিদার ব্রাজিলের বিপক্ষে। মজার বিষয় হলো, ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও ব্রাজিল ও মরক্কো ছিল স্কটল্যান্ডের গ্রুপে। সে সময় নরওয়ে ছিল তাদের আরেক প্রতিপক্ষ। এবারও প্রায় একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে স্কটিশরা।
বর্তমানে স্কটল্যান্ডের বাকি দুই প্রতিপক্ষ ব্রাজিল ও মরক্কো দুই দলই ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০-এর মধ্যে অবস্থান করছে। ফলে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে স্কটল্যান্ডকে সামনে আরও কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।