শট বেশি, আক্রমণ বেশি, দাপটও বেশি— জয়টাই শুধু পেল না মরক্কো

১৪ জুন ২০২৬, ০৬:১০ AM
মরক্কো দল

মরক্কো দল © সংগৃহীত

কাগজে-কলমে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কঠিন পরীক্ষায় ফেলল মরক্কো। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে দুই দলের লড়াই। বলের দখল ও পাসের সংখ্যায় ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও ম্যাচের বড় অংশে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মরক্কো, যা পরিসংখ্যান ও মাঠের চিত্র—দুই জায়গাতেই স্পষ্ট।

ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের বল দখল ছিল ৫৪ শতাংশ, মরক্কোর ৪৬ শতাংশ। পাসের সংখ্যায়ও এগিয়ে ছিল সেলেসাওরা, তারা ৪৯১টি পাস খেলেছে, যেখানে মরক্কোর পাস ছিল ৪৪২টি। তবে আক্রমণ গড়ার ক্ষেত্রে আফ্রিকার প্রতিনিধিরাই বেশি কার্যকর ছিল। ম্যাচে মোট ১৩টি শট নেয় মরক্কো, বিপরীতে ব্রাজিলের শট ছিল ৮টি। যদিও লক্ষ্যে রাখা শটে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল, তাদের ৫টি শট অন টার্গেটে ছিল, যেখানে মরক্কোর ছিল ২টি।

স্কোরলাইন সমতায় থাকলেও প্রথমার্ধে মাঠের গল্প ছিল ভিন্ন। বিরতিতে দুই দল ১-১ ব্যবধানে সমতায় গেলেও খেলার নিয়ন্ত্রণ ও গতি অনেকটাই ছিল মরক্কোর হাতে। শুরু থেকেই উচ্চগতির প্রেসিং এবং দ্রুত আক্রমণে ব্রাজিলকে চাপে রাখে উত্তর আফ্রিকার দলটি।

প্রথমার্ধে মরক্কোর মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন তরুণ বেনজামিন এল আইনুই। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ব্রাজিল রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেন তিনি। তার নেতৃত্বে মরক্কোর হাই-প্রেসিং কৌশলের সামনে কাসেমিরো ও লুকাস পাকেতা বারবার অসহায় দেখিয়েছে। মাঝমাঠে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা স্বাভাবিক ছন্দে বল আদান-প্রদান কিংবা আক্রমণ তৈরির সুযোগই পাচ্ছিলেন না।

উইংয়ে আশরাফ হাকিমির গতি ও ওভারল্যাপিং রান ব্রাজিলের বামপ্রান্তকে পুরো প্রথমার্ধে ব্যস্ত রাখে। দগলাস সান্তোসকে একাধিকবার রক্ষণে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে মরক্কোর ফরোয়ার্ডরা দ্রুত ওয়ান-টাচ পাসিংয়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগে ফাঁক তৈরি করতে সক্ষম হন। তাদের সংগঠিত আক্রমণ থেকেই আসে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ গোল।

তবে ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়া থেকে ব্রাজিলকে বাঁচান গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস। ষষ্ঠ মিনিটে নিশ্চিত গোলের মুখ থেকে শরীর ছুঁড়ে বল ব্লক করে দলকে রক্ষা করেন এই ডিফেন্ডার। কিন্তু পরে আরেকটি আক্রমণে মার্কিনিওস ও আইবানেজের পজিশনিংয়ের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করে নেয় মরক্কো।

ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল মাঝমাঠে সৃজনশীলতার ঘাটতি। নেইমারের মতো একজন প্রথাগত প্লেমেকারের অনুপস্থিতি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। কাসেমিরো ও পাকেতা আক্রমণভাগে প্রয়োজনীয় জোগান দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকেও বেশিরভাগ সময় বিচ্ছিন্ন দেখিয়েছে। এরপরও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে করা তার গোলটি ব্রাজিলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে।

আক্রমণে নতুন মুখ ইগর থিয়াগোও আলোচনায় ছিলেন। প্রথমার্ধে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় সুযোগটি পেয়েছিলেন তিনি। সিক্স-ইয়ার্ড বক্সের খুব কাছ থেকে নেওয়া তার দুর্বল হেড গোলরক্ষকের হাতে চলে যায়। সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। সেই মিসই শেষ পর্যন্ত তার পারফরম্যান্সের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল বলের দখল বাড়িয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। কর্নার আদায়েও এগিয়ে ছিল তারা; পুরো ম্যাচে ৬টি কর্নার পেয়েছে সেলেসাওরা, যেখানে মরক্কো একটি কর্নারও আদায় করতে পারেনি। তবে সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত ট্রানজিশনের মাধ্যমে মরক্কো ব্রাজিলকে বড় সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি।

শৃঙ্খলার দিক থেকেও মরক্কো ছিল এগিয়ে। ব্রাজিল ১৫টি ফাউল করে দুটি হলুদ কার্ড দেখলেও মরক্কো ১৪টি ফাউল করেও কোনো কার্ড দেখেনি। দুই দলের কেউই লাল কার্ড দেখেনি।

শেষ পর্যন্ত পরিসংখ্যান বলছে, বলের দখল, পাস, কর্নার ও লক্ষ্যে রাখা শটে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। কিন্তু মাঠের বাস্তবতায় আক্রমণের ধার, প্রেসিং, গতি এবং সুযোগ তৈরিতে অনেক সময়ই এগিয়ে ছিল মরক্কো। ফলে ১-১ সমতার ফলটিকে মরক্কোর সাহসী ও পরিকল্পিত ফুটবলের স্বীকৃতি বলেই মনে হচ্ছে। অন্যদিকে ব্রাজিলের জন্য এই ম্যাচ স্মরণ করিয়ে দিল, শুধু বলের দখল নয়, মাঝমাঠে সৃজনশীলতা ও আক্রমণে কার্যকারিতাও বড় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে।

দুপুরের মধ্যে যে ১০ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস
  • ১৪ জুন ২০২৬
ব্রাজিল তারকাদের দল থেকে তারকা দল কবে হবে?
  • ১৪ জুন ২০২৬
আনচেলত্তি-ভিনিসিয়াসের কথায় কি শান্ত হবে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকর…
  • ১৪ জুন ২০২৬
ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র এর পর যা বললেন হাকিমি
  • ১৪ জুন ২০২৬
লাতিন পরাশক্তিদের শুরুতেই হোঁচট, আর্জেন্টিনা কি পারবে চাপ স…
  • ১৪ জুন ২০২৬
ব্রাজিলের পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ আনচেলত্তি, এক শব্দে দিলেন ক…
  • ১৪ জুন ২০২৬
×