রেফারির সঙ্গে তর্কে নেইমার © সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে এখনও প্রায় ৪ সপ্তাহ বাকি। তবে এর আগেই ক্রীড়াপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্ট। সবমিলিয়ে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের প্রতিটি মুহূর্তের খোঁজখবর রাখছেন তারা। বিশেষ করে প্রিয় দলের প্রত্যেক খুঁটিনাটি বিষয়েও আলোকপাত করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
এদিকে সোমবার (১৮ মে) রাত বাংলাদেশ সময় ২টায় ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করবেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কিন্তু চূড়ান্ত সেই দলে নেইমার জুনিয়র থাকবেন কিনা, তা জানার আগ্রহ এখন তুঙ্গে। এ নিয়ে ব্রাজিলিয়ান এই পোস্টারবয়ও হয়তো অনেকটা চিন্তিত। ঠিক সেই কারণেই কিনা স্কোয়াড ঘোষণার আগের দিন রাতে ঘটালেন লঙ্কাকান্ড।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ফোর্থ অফিশিয়ালের এক নজিরবিহীন ও মারাত্মক ভুলে চরম ক্ষোভ ও মেজাজ হারিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এভাবে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি তিনি। রাগে-ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা যায় এই ফরোয়ার্ডকে। এমন চরম বিশৃঙ্খলার রাতে করিতিবার কাছে ৩-০ গোল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় নেইমারের দল সান্তোস।
রবিবার (১৭ মে) ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ঘটে এই বিতর্কিত ও নাটকীয়তা ঘটনা। ৩১ নম্বর জার্সিধারী ডিফেন্ডার গনজালো এসকোবারকে তুলে নেওয়ার জন্য অফিশিয়াল সাবস্টিটিউশন স্লিপ জমা দিয়েছিলেন সান্তোসের কোচিং স্টাফ। এ সময়ে চোটের চিকিৎসা নিতে সাময়িকভাবে মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার। কিন্তু ইলেকট্রনিক বোর্ডে মারাত্মক ভুলে এসকোবারের পরিবর্তে নেইমারের ১০ নম্বর জার্সি প্রদর্শন করেন ফোর্থ অফিশিয়াল। ৬৫তম মিনিটে নেইমারের বদলি হিসেবে রবিনিও জুনিয়রকে নামানোর ঘোষণা দেন।
কিন্তু রেফারি বা লাইন্সম্যানের কোনো অনুমতি ছাড়াই হন্তদন্ত হয়ে সরাসরি মাঠে ঢুকে পড়েন এ নিয়ে ক্ষুব্ধ নেইমার। অনুমতি ছাড়া মাঠে প্রবেশ করায় তাৎক্ষণিকভাবে নেইমারকে হলুদ কার্ড দেখান ম্যাচ রেফারি। এতে আরও উত্তেজিত হয়ে সাইডলাইনে গিয়ে ফোর্থ অফিশিয়ালের কাছ থেকে মূল সাবস্টিটিউশন পেপারটি কেড়ে নেন নেইমার। পরে বদলির কাগজটি টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে দেখাতে থাকেন। বোঝাতে চান, ভুল করে তার নম্বর তোলা হয়েছে, এস্কোবারের নয়।
কিন্তু অফিশিয়াল বোর্ডে ১০ নম্বর উঠে যাওয়ায় এবং ম্যাচ রেফারিদের অনমনীয় সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়েন নেইমার। যদিও মাঠ ছাড়ার সময় এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারকে রেফারিদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও অঙ্গভঙ্গি প্রকাশ করতে দেখা যায়।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে সান্তোস জানায়, ‘চতুর্থ কর্মকর্তা বদলির ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। টেলিভিশনের ফুটেজ ও কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত নোটেও সেটি পরিষ্কার দেখা গেছে। অথচ এই অবিশ্বাস্য ভুলটি আর সংশোধন করা হয়নি।’
উল্লেখ্য, ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের আন্তর্জাতিক গোল ৭৯টি। তবে চোটের কারণে ২০২৩ সালের পর থেকে আর জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি তিনি।