১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো এবারই ফিফা বিশ্বকাপে খেলবে ক্যারিবীয় দেশ হাইতি। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে অংশ নেওয়ার জন্য শুক্রবার (১৫ মে) ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন দলটির কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে।
৩৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলকিপার জনি প্লাসিড এবার হাইতির গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে রক্ষণভাগে লিগ ওয়ানে দারুণ মৌসুম কাটানো কার্লেন্স আরকুস এবং রিকার্ডো আদে দলের মূল শক্তি হিসেবে থাকছেন। এ ছাড়া মাঝমাঠে লিভারটন পিয়েরে এবং ড্যানলি জিন জ্যাকসের ওপর ভরসা রেখেছেন দলটির কোচ। প্রিমিয়ার লিগের দল উলভারহ্যাম্পটনের জঁ-রিকনার বেলগার্ডও তাদের সঙ্গে রয়েছেন।
হাইতির ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলদাতা ডাকেন্স নাজোন যথারীতি আক্রমণভাগে থাকছেন, ৭৬ ম্যাচে ৪৪ গোল করেছেন তিনি। তার সঙ্গে ফেরেন্সভারোসের হয়ে চলতি মৌসুমে ১৬ গোল ও ১০ অ্যাসিস্ট করা লেনি জোসেফও আছেন।
স্কোয়াড ঘোষণার সময় কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে বলেন, ‘এটি আমার দ্বাদশ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। এই ধরনের প্রতিযোগিতায় সেরা একাদশ বেছে নেওয়ার চেয়ে সেরা স্কোয়াড তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ৫২ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমাদের সমর্থক, স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’
বিশ্বমঞ্চে নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করা। তবে খেলোয়াড়দের মানসিকতা বিবেচনায় এটি খুবই ছোট লক্ষ্য। আমরা রাউন্ড অব ৩২ (নকআউট পর্ব)-এ খেলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামব। আমি চাই ছেলেরা মাঠে তাদের সেরাটা দিয়ে হাইতির একটি চমৎকার ভাবমূর্তি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরুক।’
১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’ তে হাইতি। গ্রুপ পর্বে তাদের লড়তে হবে স্কটল্যান্ড, ব্রাজিল এবং মরক্কোর মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের। ১৪ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে হাইতি। এরপর ২০ জুন ব্রাজিল ও ২৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে লড়বে লেস গ্রেনাডিয়ার্সরা।
হাইতির বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলকিপার: জোসু ডুভারগার, আলেকজান্ডার পিয়েরে, জনি প্লাসিড (অধিনায়ক)।
রক্ষণভাগ: রিকার্ডো আদে, কার্লেন্স আরকুস, হ্যানস ডেলক্রোয়েক্স, জিন-কেভিন ডুভার্নে, মার্টিন এক্সপেরিয়েন্স, ডিউক ল্যাক্রোইক্স, উইলগুয়েনস পগেন, কিটো থার্মনসি।
মধ্যমাঠ: কার্ল ফ্রেড সেন্ট, জিন-রিকনার বেলেগার্ডে, লিভারটন পিয়েরে, ড্যানলি জিন জ্যাকস, উডেনস্কি পিয়েরে, ডমিনিক সাইমন।
আক্রমণভাগ: জোসু ক্যাসিমির, লুইসিয়াস ডিডসন, ডেরিক এটিয়েন জুনিয়র, ইয়াসিন ফরচুন, উইলসন ইসিদোর, লেনি জোসেফ, ডাকেন্স নাজোন, ফ্রান্টজডি পিয়েরট, রুবেন প্রভিডেন্স।