চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয় হাজার ২৮৭জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল তিন হাজার ৩৭১জন। বেড়েছে দুই হাজার ৯১৬জন।
আজ সোমবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মাদরাসায় জিপিএ-৫ পাওয়ার এ হারকে অস্বাভাবিক বলে অভিহিত করেছেন অনেকে।
প্রকাশিক ফলাফল অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। আগের বছর ছিল ৭০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। পাসের হার বেড়েছে ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে এবার মোট তিন লাখ ছয় হাজার ৭৮০জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। গত বছরের তুলনায় ১৯ হাজার ৮৬৩জন বেশি।
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। আর সবার পেছনে রয়েছে সিলেট বোর্ড। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এগিয়ে আছে মেয়েরা।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে সর্বোচ্চ ৯১ দশমিক ৬৪ শতাংশ পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৭৯৫ জন। এছাড়া ঢাকা বোর্ডে পাস করেছে ৭৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পেয়েছে সর্বোচ্চ ২৯ হাজার ৬৮৭জন।
ফলে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে। পাসের হার ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন সবচেয়ে কম দুই হাজার ৭৫৭জন। এছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৮৭ দশমিক ১৬ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ, দিনাজপুরে ৮৪দশমিক ১০ শতাংশ, বরিশালে ৭৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে ৭২ দশমিক ২৪ শতাংশ পাস করেছে।
মেয়েদের পাসের হার ৮৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর ছেলেদের পাসের হার ৮১ দশমিক ১৩ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৯৪ জন। এরমধ্যে মেয়ের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৪৮৪জন। আর ছেলের ৫২ হাজার ১১০জন।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন। এবার পাশের হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আটটি সাধারণ এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। আগের বছর ছিল ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৯৪ জন। আগের বছর ছিল এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯জন। শতভাগ পাস করেছে দুই হাজার ৫৮৩টি প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া পাসের হার শূণ্য ১০৭টি প্রতিষ্ঠানে।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রীর হাতে ফল তুলে দেন আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক। তবে পরীক্ষার্থীরা ফল জানতে পারবেন দুপুর ১২টার পর থেকে। ওই সময় থেকে ফল সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
ফল গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বক্তব্য পাঠ করে শোনান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফল নিয়ে মন খারাপ করার কোন কারণ নেই। আগামীতে আরও ভালো ফল করতে হবে। এছাড়া সবাইকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে আরও পারদর্শী হতে হবে। এসময় যারা কৃতকার্য হয়েছেন তাদেরকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
পরে প্রধানমন্ত্রী লন্ডন থেকে ফোনে সরাসরি কথা বলেন। তা উপস্থিত সবাইকে শোনানো হয়। এসময় তিনি সবাইকে অভিনন্দন জানান। এছাড়া যারা কৃতকার্য হতে পারেননি তাদেরকে মন খারাপ না করার আহবান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।
বরাবরের মতো এবারও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটের পাশাপাশি যে কোনো মোবাইল থেকে এসএমএস করে ফল জানা যাবে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৮৯২ জন ছাত্রী এবং ১০ লাখ ৭০ হাজার ৪৪১ জন ছাত্র।