শেষ বিদায় নিতে এফডিসিতে আনা হবে ফারুকের মরদেহ © সংগৃহীত
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা, সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে। দুপুরে শেষ বিদায় দিতে তার মরদেহ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফারুকের মেয়ে ফারিয়া তাবাসসুম পাঠান তুলসী।
ফারুকের মেয়ে ফারিয়া তাবাসসুম পাঠান তুলসী জানান, উত্তরা থেকে বেলা ১১টার দিকে ফারুকের মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানাবেন। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে এফডিসিতে নিয়ে যাওয়া হবে মরদেহ। সেখানে বাদ যোহর জানাজার পর নিয়ে যাওয়া হবে গুলশান আজাদ মসজিদে। সেখানে বাদ আসর জানাজা হবে।
আজাদ মসজিদের জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তার নিজ জন্মস্থান কালীগঞ্জে। উপজেলার তুমালিয়া ইউনিয়নে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে ফারুককে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ মে) সকালে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর থেকে নায়ক ফারুকের মরদেহ ঢাকায় আনা হয়। এরপর মরদেহ উত্তরার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
২০২১ সালের ৪ মার্চ সিঙ্গাপুরে যান ফারুক। চেকআপের পর তখন তার ইনফেকশন ধরা পড়লে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হন এই অভিনেতা। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ফারুক।
প্রায় পাঁচ দশক ধরে বড় পর্দা মাতিয়েছেন ফারুক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে ঢাকা-১৭ আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন চিত্রনায়ক ফারুক। ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’তে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে ফারুকের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রথম সিনেমায় তার বিপরীতে ছিলেন মিষ্টি মেয়ে কবরী।
এরপর ১৯৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র খান আতাউর রহমানের পরিচালনায় ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ও ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার আলোর মিছিল এ দুটি সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
১৯৭৫ সালে তার অভিনীত 'সুজন সখী' ও 'লাঠিয়াল' সিনেমা দুটি ব্যাপক ব্যবসা সফল হয়। ওই বছর 'লাঠিয়াল'র জন্য তিনি সেরা-পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
১৯৭৬ সালে 'সূর্যগ্রহণ' ও 'নয়নমণি', ১৯৭৮ সালে শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত আব্দুল্লাহ আল মামুনের 'সারেং বৌ', আমজাদ হোসেনের 'গোলাপী এখন ট্রেনে'সহ বেশকিছু সিনেমায় 'মিয়া ভাই'খ্যাত চিত্রনায়ক ফারুকের অভিনয় প্রশংসিত হয়।