করোনা সংকট

বশেমুরবিপ্রবি: সেশনজট নিরসনে ডিনদের ভাবনা

৩১ মে ২০২০, ০৮:৪৯ PM

© টিডিসি ফটো

করোনাভাইরাসের প্রকোপে দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ন্যায় বন্ধ রয়েছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)। ফলাফলস্বরূপ শিক্ষক সংকট, ক্লাসরুম সংকট, ল্যাব সংকটসহ নানা সংকটে জর্জরিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছ সেশনজট আতংক।

ধারণা করা হচ্ছে— দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীকে ৩ মাস থেকে ৬ মাসের সেশনজটের কবলে পড়তে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাসের সম্ভাবনা এবং সেশনজট মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে ভাবনার কথা জানিয়েছেন পাঁচ অনুষদের ডিন।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম খান বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার যাদের অনেকেই বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গ্রামে অবস্থান করছে। এসকল গ্রামে পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আর আমাদের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসেও অভ্যস্ত নয়। তাই অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চালানোটা আমাদের জন্য রীতিমতো অসম্ভব।

তিনি বলেন, যদি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি বৃদ্ধি পায় তাহলে তিনমাস থেকে ৬ মাসের সেশনজট সৃষ্টি হতে পারে। তবে আমরা চেষ্টা করবো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অতিরিক্ত ক্লাস এবং ছুটি কমিয়ে আনার। এতে সেশনজট কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম. এ. সাত্তার মিয়া বলেন, যেহেতু দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ তাই কিছুটা সেশনজটে ভুগতেই হবে। তবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেকটা অসম্ভব, কারণ আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী প্রত্যন্ত অঞ্চলের এবং অনেকেরই আর্থিক সমস্যা রয়েছে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্লাস এবং ছুটি কমিয়ে কিছুটা সমন্বয় করা যেতে পারে।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. শেখ আশিকুর রহমান প্রিন্স বলেন, শুধু আমাদের দেশ নয় সমগ্র বিশ্বকেই করোনাভাইরাস স্থবির করে দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই ভাইরাসের প্রভাব পড়বে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও হয়তো কিছুটা সেশনজট সৃষ্টি হবে। তবে আমি মনে করিনা এতে আমাদের ছেলে মেয়েরা আলাদাভাবে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই একই অবস্থা তৈরি হবে।

অনলাইন ক্লাস সম্পর্কে তিনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে হয়তো অনলাইনে ক্লাস নেয়া সম্ভব। এতে আমাদের সেশনজট কিছুটা কম হবে। আর যদি অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব না হয় তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে সেশনজট কমিয়ে আনার চেষ্টা করা যেতে পারে।

মানবিকী অনুষদের ডিন মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান ভুইঁয়া বলেন, অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই অংশগ্রহণ করতে পারবেনা। তাই অনলাইন ক্লাস সেশনজট নিরসনে খুব একটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবেনা।

সেশনজট নিরসনে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিবো। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে এবং ছুটি কমিয়ে সেশনজট কমানোর চেষ্টা করা হতে পারে।

আইন অনুষদের ডিন মো. আব্দুল কুদ্দুস মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সেশনজট এড়ানোর সুযোগ নেই। এই মুহুর্তে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যেতো কিন্তু আমাদের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসে অভ্যস্ত নয়। তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলের মানসিক অবস্থাও ভালো নেই। কেউ কেউ নিজে আক্রান্ত আবার কারো কারো পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত, এরূপ পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমি মনে করি সেশনজট নিরসনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অতিরিক্ত ক্লাস নেয়া যেতে পারে এবং ছুটি কমানো যেতে পারে। এটি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য অধিক সুবিধাজনক হবে এবং অতিরিক্ত ক্লাসের ফলে সেশনজটও কমে আসবে।

আজকের এইচএসসিতে অনুপস্থিত ৯ হাজার, বহিষ্কার কত
  • ০৪ আগস্ট ২০২৬
জরুরি বৈঠকে বসছে জবি প্রশাসন
  • ০৪ আগস্ট ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে খুবির গণভোজে অংশ নেবেন পাঁচ হাজার …
  • ০৪ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের মারামারি, কয়েকজন আহত
  • ০৪ আগস্ট ২০২৬
বুয়েটে কর্মকর্তা নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি, পদ ১৮, আবেদন ২৩ আগস্ট পর…
  • ০৪ আগস্ট ২০২৬
পলাতক শেখ হাসিনার ভাষণ নিয়ে যা জানাল ভারত
  • ০৪ আগস্ট ২০২৬