অনলাইন ক্লাস সিদ্ধান্তে দোদুল্যমান নোবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

© লোগো

দেশে মরণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সব ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইউজিসির অনুরোধে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেতে এগিয়ে আছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। 

এদিকে, নানা সমস্যার কারণে অনলাইনে পাঠাদান বাস্তবায়নে হিমসিম খেতে যাচ্ছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রশাসনকে। অনলাইনে ক্লাস সিদ্ধান্তে শিক্ষক-শিক্ষার্থী কারোই যেন সমীকরণ মিলছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. দিদার-উল-আলম অনলাইনের ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগের কথা জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কোন ধরণের নোটিশ দেয়া হয়নি।

ক্লাস হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী উপাচার্য মহোদয় সকল অনুষদের ডিনদেরকে নিয়ে অনলাইনে একটি মিটিং আহবান করেন। সকলের সম্মতিক্রমে মিটিংএ অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।ৎ এবং ডিনরা সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমূহকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। তবে এক্ষেত্রে কোন শিক্ষার্থী যেন ক্লাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়। শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবতার আলোকে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

চলমান মহামারী পরবর্তীতে সরকারি বন্ধের দিনগুলোতেও ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সেশন জট এড়ানোর ব্যক্তিগত মতামতের কথা জানান প্রক্টর। এছাড়াও অবসর সময়ে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স করার দাবির কথা বললে বাস্তবতার আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারেও জানান প্রক্টর। সেখান থেকে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে কোর্স করতে পারবে।

ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে অনলাইনে ক্লাসের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এই সেমিস্টারে আমার পাঁচটি কোর্স রয়েছে। কিছু কমিয়ে না রাখলে পরবর্তীতে সম্পন্ন করা কষ্টসাধ্য হবে। সেজন্য আমি অনলাইনে ক্লাস নেয়া শুরু করেছি। তবে ইন্টারনেট সমস্যা থাকায় কিছু শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে নাই। আমি শিক্ষার্থীদের ক্লাস মেটেরিয়ালস দিয়ে দিচ্ছি। এতে যাদের বুঝতে সমস্যা হবে তারা যেকোন মাধ্যমে যোগাযোগ করলে আমি বুঝিয়ে দিব। এবং যে লেকচার বুঝতে বেশি সমস্যা হবে সেটা পরবর্তীতে ক্যাম্পাস খোলার পর আবার নেওয়া হবে।

এদিকে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেও শিক্ষার্থীদের বিরূপ মতামতের ফলে থেমে আছেন কয়েকজন শিক্ষক। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ক্লাস প্রতিনিধির মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে ২/১ টি ক্লাস নিয়েও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার দরুন ক্লাস বাদ দিয়ে মহামারী প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সাহচার্য দিয়ে যাচ্ছেন কোন কোন শিক্ষক।

করোনায় আক্রান্ত এলাকার দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বন্ধু ও অনুন্নত ইন্টারনেট পরিসেবা মূলক এলাকায় থাকা সহপাঠীদের কথা ভেবে অনলাইনে ক্লাস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রথমে ক্লাস করার ইচ্ছা পোষণ করা শিক্ষার্থীরাও। একই কারণে প্রিয় শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে অনলাইনে ক্লাস না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষকও।

কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, করোনা মুক্তির ব্যাপারে সকলে অনিশ্চিত। তাই অনলাইনকে পুঁজি করে সিলেবাস কিছু এগিয়ে রাখতে পারলে ক্যাম্পাস খোলার পর বিভাগ সমূহকে পরীক্ষার জন্য আর বাড়তি দিন গুনতে হবে না। তবে এক্ষেত্রে সব শিক্ষার্থীর অংশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। গ্রামাঞ্চলে থাকায় ওয়াইফাই সেবা নেই এবং ইন্টারনেট সেবা দুর্বল। এছাড়াও সকলের পক্ষে এই মুহূর্তে প্রয়োজনানুসারে ডাটা কেনা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেটের বিশেষ প্যাকেজ সুবিধা দিয়ে ডাটার সমস্যা গুছানো সম্ভব। এবং নির্দিষ্ট এপস এর সাথে (জুম, স্কাইপি ইত্যাদি অনলাইন ভিডিও সেবা) চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালু করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, করোনা আতঙ্কে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার মানসিকতা নেই। বিশেষ করে হটস্পট অঞ্চলগুলোর শিক্ষার্থীরা রীতিমতো ট্রমার মধ্যে আছে। যার কোন সমাধান নেই। সুতরাং সকলের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করে শিক্ষা চালিয়ে নেওয়াটা দুষ্কর। যদিও এটাও সত্যি যে করোনা পরবর্তী পৃথিবী হয়তো অনেক কঠিন হবে। এবং সেখানে যোগ্যতমরাই টিকে থাকবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্কিল ডেভেলপমেন্ট করা হয় এমন বিশেষায়িত অনলাইন শিক্ষামূলক সাইটগুলোর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এবং সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে কিছু অ্যাডভান্স স্কিল ডেভেলপ করার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে উপকৃত হবে পারবে।

কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান এবং বাংলাদেশ এন্ড লিবারেশন ওয়্যার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া জানান, অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে সেশনজট কিছুটা এড়ানো সম্ভব হবে। করোনা পরবর্তীতে কিছু দিন ক্লাস নিয়েই পরীক্ষা নেওয়া যাবে। তবে গ্রামে ওয়াই-ফাই সুবিধা না থাকায় এবং নেট দুর্বলের কারণে অনেক শিক্ষার্থীই এতে বঞ্চিত হবে। স্বল্প দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে যাওয়ায় সকলের কাছে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সরঞ্জামও নেই। কাজেই ক্লাসে অংশ নেওয়া এবং স্যারদের দেয়া কাজগুলো সকলে সম্পন্ন করতে পারবে না। সুতরাং সকলের সুবিধা নিশ্চিত করে অনলাইন ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়।

ইউআইটিএসে বর্ণিল আয়োজনে ‘বৈশাখী উল্লাস ১৪৩৩’ উদযাপন
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
রেকর্ড ছাড়াল এসএসসি পরীক্ষার চতুর্থ দিনের বহিষ্কার
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
সিনিয়র অফিসার নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন, আবেদন শেষ ৬ মে
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
অন্তরঙ্গের পর গুগল ড্রাইভে ভিডিও সংরক্ষণ, বহিষ্কার কুয়েটের …
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধের মাঝেও ৩.২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড মুনাফা করল ব্রিটিশ প…
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: মোবাইল টাওয়ার ও বিদ্যুৎ …
  • ২৮ এপ্রিল ২০২৬