ইউরোপে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিল মাভাবিপ্রবির বিভাসের

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩০ PM , আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৯ PM
বিভাস

বিভাস © টিডিসি ফটো

স্বপ্ন মানে না কোনো বাঁধা! প্রত্যন্ত গ্রামের নিভৃত পরিবেশে জন্ম নেওয়া এক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, সীমান্ত পেরিয়ে তাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বমঞ্চে। যেই স্বপ্নের পেছনে ছিল কত না বলা সংগ্রাম, নির্ঘুম রাত আর বারবার ভেঙে পড়েও উঠে দাঁড়ানোর গল্প। বিভাস কুমার দাস এমনই এক অনুপ্রেরণার নাম—যিনি প্রমাণ করেছেন, সাফল্য কেবল মেধার নয়, বরং ধৈর্য, পরিকল্পনা ও অদম্য অধ্যবসায়ের সুমিষ্ট ফল।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)-এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮–২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিভাস কুমার দাস আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামের অধীনে “ন্যানোম্যাটেরিয়ালস ফর গ্রিন অ্যান্ড ডিজিটাল ট্রান্সিশান” প্রোগ্রামে ২০২৬ সেশনের জন্য পূর্ণ অর্থায়িত স্কলারশিপ অর্জন করেছেন।

এই স্কলারশিপের আওতায় রয়েছে সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্য বীমা এবং ইউরোপের একাধিক দেশে অধ্যয়নের সুযোগ। প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে তিনি ফ্রান্স, ইতালি এবং স্লোভেনিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবেন- যা তাকে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও একাডেমিক পরিবেশে কাজ করার সুযোগ করে দেবে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার একটি সাধারণ গ্রাম থেকে উঠে আসা বিভাসের পথচলা ছিল একেবারেই সাধারণ, তবে তার স্বপ্ন ছিল অসাধারণ। এসএসসি ও এইচএসসি-উভয় পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ অর্জনের মাধ্যমে তিনি শুরুতেই নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন।

পরবর্তীতে মাভাবিপ্রবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪.০ সিজিপিএ-৪.০ এর মধ্যে ৩.৫৯ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণার প্রতিও তার ঝোঁক ছিল স্পষ্ট ও ধারাবাহিক। ইতোমধ্যে তিনি আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য কিউ-ওয়ান জার্নালে ৮টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করে নিজেকে একজন সম্ভাবনাময় গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তবে এই অর্জনের পেছনের গল্পটি মোটেই সহজ ছিল না। স্নাতক সম্পন্ন করার পর প্রথম বছর তিনি কোথাও ভর্তির সুযোগ পাননি। একের পর এক প্রত্যাখ্যান, অনিশ্চয়তা আর হতাশার মধ্যেও তিনি থেমে যাননি। বরং আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজের দুর্বলতাগুলো শনাক্ত করেন এবং সেগুলো কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করেন।

নির্ঘুম রাত, দীর্ঘ অপেক্ষা আর অবিচল মানসিক শক্তিই তাকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যায় সাফল্যের দিকে। অবশেষে তার সেই নিরলস প্রচেষ্টা আজ এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক গর্বিত অবস্থান।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপ পেতে আগ্রহীদের উদ্দেশ্যে বিভাস কুমার দাস বলেন, “ধৈর্যের সাথে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে প্রস্তুতি নিয়ে আবেদন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি শক্তিশালী এসওপি, কার্যকর এলওআর এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা একজন আবেদনকারীকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে। নিজের মনোবল ধরে রেখে চেষ্টা চালিয়ে গেলে, সাফল্য একটু দেরিতে হলেও নিশ্চিতভাবেই আসে।”

বিভাসের এই অর্জন কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য এক শক্তিশালী বার্তা- সঠিক দিকনির্দেশনা, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের প্রতি আস্থা থাকলে, বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করা সম্ভব।

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি অধ্যাপক জিয়াউর রহমান
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ফিল্ড সুপারভাইজার নিয়োগে বড় বিজ্ঞপ্তি টিএমএসএসে, পদ ৫০০, আব…
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
কপাল খুলছে এনসিপির নুসরাত তাবাসসুমের!
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সবার জন্য এনসিপির দরজা খোলা, তবে...
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
জীবন বিমা করপোরেশনে চাকরি, পদ ২০, আবেদন অভিজ্ঞতা ছাড়াই
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারে ছেয়ে গেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যা…
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬