© প্রতীকী ছবি
কখনও পরিচত, আবার কখনও অপরিচত। কখনও ক্যাম্পাসের বাইরের, আবার কখনও ক্যাম্পাসের ভেতরের লোক কর্তৃক উত্ত্যক্তের শিকার হচ্ছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ছাত্রীরা। ফলে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।
সর্বশেষ গত বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন একাডেমিক ভবন-৩ এর দুই নির্মাণ শ্রমিক কর্তৃক উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন দুই ছাত্রী। এ ঘটনায় জড়িতদের কোন আইনী ব্যবস্থা নেননি প্রশাসন। তবে তাদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, আগামীতে এ ধরণের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব অভিযোগ দেওয়ার জন্য একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। সেখানে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে পারবেন।
জানা যায়, গত মাসের শেষের দিকে নোয়াখালীর মাইজদী বাজার এলাকা থেকে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসে এক অপরিচিত লোক কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের এক ছাত্রী। পরে প্রক্টর বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। এতে তিনি লিখেন, ঘটনার দিন সকাল ৮টার সময় মাইজদী বাজার থেকে বাস ছাড়ার কিছুক্ষণ পরেই একটি অচেনা লোক বাসে ওঠে পড়ে। বাসে অন্য শিক্ষার্থী না থাকায় লোকটি ওই ছাত্রীর পেছন থেকে শরীরে হাত দিয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। এসময় ভুক্তভোগী ছাত্রী জোরে চিৎকার করলে লোকটি বাস থেকে নেমে যায়।
গত বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে একটি সামাজিক সংগঠনের জরুরী মিটিং শেষে ক্যাম্পাসের পুকুর পাড় হতে নির্মাণাধীন একাডেমিক-৩ হয়ে আসেন দু’ছাত্রী। এসময় দুই শ্রমিক তাদের দেখে শিস বাজায়। এসময় তারা পিছনে ফিরে তাকালে আরও উত্যক্ত করার চেষ্টা করে দুই শ্রমিক। এমতাবস্থায় তারা দু’জন চিৎকার করলে শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হয়।
পরে দুজনকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিম দীর্ঘ সময় ধরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরবর্তীতে প্রক্টর তাদের কর্মস্থল হতে বহিষ্কার করেন। এসময় পরবর্তীতে অন্য কোন ছাত্রী যেন এরকম ঘটনার শিকার না হয়, সেই জন্য সকল শ্রমিককে ডেকে আনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল জায়গায় যাওয়া নিষিদ্ধ করে নির্দিষ্ট কিছু স্থান বেঁধে দেয় প্রক্টর।
গত ২৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে ২ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে বহিষ্কার করা সামছুদ্দোহা মিরাজ নামের ইংরেজি বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের এক শিক্ষার্থীকে। একই বিভাগের এক সিনিয়র ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির দায়ে এ সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংলগ্ন দোকানের সামনে দুই ছাত্রী হয়রানির শিকার হয়। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর এ ঘটনার অভিযোগ দিলে প্রক্টরিয়াল টিম দোকান মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও ওই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি। এ ঘটনায় জড়িতরা ক্যাম্পাসের নাকি ক্যাম্পাসের বাহিরের সনাক্ত করতে পারেনি ভুক্তভোগীরাও। ফলে অভিযুক্তরা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে।
বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এন্ড লিবারেশন ওয়্যার স্টাডিজ বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈমা মাহমুদ তুবা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ দেখে বলতে হয় নিজ ক্যাম্পাসে ছাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। পথে বের হলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ক্লাস করার জন্য নয়; শ্রেণিক্ষে শিক্ষার বাইরেও এখানে মেয়েরা আড্ডা দিবে, ক্লাব করবে, লাইব্রেরিতে সময় কাটাবে। কিন্তু ক্যাম্পাসে মেয়ে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গত কয়েকদিনে ইভটিজিংয়ের ঘটনাপ্রবাহের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি আমরা।
তিনি বলেন, আমাদের প্রশাসন নারী শিক্ষার ব্যাপারে ভীষণ আন্তরিক। এসব ক্ষেত্রে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। সমস্যার সঠিক সমাধান না হলে প্রশাসনের কোন অর্জনেরই মূল্য থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার অভাবে ঠিকমত চলাফেরা করতে না পারলে কোথায় আমরা নিরাপত্তা পাবো? তাছাড়া এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি সারাদেশে আমাদের ক্যাম্পাসের মান ক্ষুণ্ণ করে। এতে করে আমাদের অর্জনগুলোও ঢাকা পড়ে যায়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে প্রশাসনকে কঠোন ভূমিকা রাখা দরকার।
এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বাসে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেজন্য পরিবহনে কিছু নিয়মনীতি পরিবর্তন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেউ যাতে ক্যাম্পাসের বাসে উঠতে না পারে। এছাড়া সকল শ্রমিকদের দিনে কর্মস্থল ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনের ব্যতিক্রম দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার জন্য হটলাইন চালু করা হয়েছে। কারও কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।