© টিডিসি ফটো
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শিক্ষার্থীদেরকে শুধুমাত্র সনদ লাভের জন্য শিক্ষা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে বলেছেন, মানসম্মত শিক্ষা ব্যতীত শিক্ষার কোন মূল্য নেই। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মানসম্মত শিক্ষা বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, জ্ঞানের এ বিশাল রাজ্যে শুধু পাঠ্যপুস্তুক অধ্যয়নে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না। পাঠ্যবিষয়ে সাথে সাথে বর্হিজগতের জ্ঞান ভান্ডার হতে জ্ঞান আহরণ করতে হবে। নিজেকে কর্মী ও জ্ঞানী করে তোলাই হবে তোমাদের মূল লক্ষ্য। তোমাদের উচিত ত্যাগ ও সত্যের অভিমুখী হওয়া। সেই সাথে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে সুষ্ঠ ও সবল মনের অধিকারী হওয়া। সদাচারণ, সদালাপ, উচ্চ চিন্তা ও সহজ জীবনাচারণ তোমাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। সেই সাথে থাকতে হবে কল্পনাশক্তি যা মানুষকে বড় করে, ভাবনার জগতকে প্রসারিত করে।
সমাবর্তনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষা জীবন শেষে তোমরা আজ কর্ম জীবনের পথে পা বাড়াচ্ছো। মনে রাখবে, কর্মজীবন নানা ঘাত-প্রতিঘাতে বিক্ষুব্ধ তরঙ্গের ন্যায়। তোমরা তোমাদের অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতা দিয়ে সেই ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ পথ পাড়ি দেবে। এ সমাজ ও দেশ তোমাদের অনেক দিয়েছে। তাই দেশ ও সমাজের প্রতি তোমাদের দায়িত্ববোধ অনেক। মেধা ও কর্মের মাধ্যেমে তোমরা এ মাতৃভূমির কল্যাণ করবে, বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরবে উজ্জলভাবে।
বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় খাপ খওয়াতে শিক্ষার্থীদের কারিগরী শিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বমানের নাগরিক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সনদপ্রাপ্তদের নিজেকে সুসজ্জিত হতে হবে। তিনি বলেন, আগামীতে বিশ্বব্যাপী চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে মানিয়ে নিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার কোন বিকল্প থাকবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সমবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সাবেক ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ ও উপ-উপচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ আলিও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
সমাবর্তনে মোট ৩ হাজার ৭০৬ জন পোষ্ট গ্রাজুয়েট এবং গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থী সনদ লাভ করেন। ৬৩ জন তাদের সাফল্যের জন্য স্বর্ণপদক এবং ১১ জন গবেষণার জন্য ডক্টর অব ফিলোসফি (পিএইচডি) ডিগ্রী লাভ করেন।