ইনোভেশন ফেয়ারে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন যবিপ্রবি, ক্যাম্পাসে আনন্দ র‌্যালি

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫২ PM
‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি।

‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি। © টিডিসি ছবি

জাতীয় পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। এই অর্জন উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজধানীর নভোথিয়েটারে ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। এতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৭৩টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শত শত গবেষক ও উদ্ভাবক অংশ নেন। উদ্ভাবনী গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন ও বাস্তবমুখী প্রয়োগের ভিত্তিতে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়কে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন হয় যবিপ্রবি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে আনন্দ র‌্যালিটি বের হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক হয়ে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবন ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবন প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। পরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশটি পরিচালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসান।

সমাবেশে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘যবিপ্রবিতে যে উচ্চমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজ হয়, আজকের এই অর্জন তারই স্বীকৃতি। গবেষণা কখনোই একক কোনো কাজ নয়, এটি একটি সমন্বিত প্রয়াস। আমাদের শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও চমৎকার টিমওয়ার্কের কারণেই আমরা সফলভাবে এই প্রজেক্টগুলো সম্পন্ন করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের এসব গবেষণার উদ্ভাবনকে চূড়ান্ত পণ্য হিসেবে বাজারে এনে দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘আজ গবেষণায় বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে যবিপ্রবি নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। এখন আমাদের মূল দায়িত্ব হলো গবেষণার এই ধারা ও মান ধরে রাখা। আমাদের শিক্ষার্থীরা এখান থেকে বিশ্বমানের গবেষণার হাতেখড়ি নিয়ে সারা বিশ্বে নিজেদের ছড়িয়ে দেবে এবং দেশের নাম উজ্জ্বল করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের গবেষকদের কঠোর পরিশ্রম এবং উদ্ভাবনী মেধার ফলেই যবিপ্রবি এই অভাবনীয় সাফল্য ও স্বীকৃতি অর্জন করতে পেরেছে। প্রতিযোগিতায় আমাদের একাধিক প্রজেক্ট সরকারের শীর্ষ মহলের নজর কেড়েছে, যা আমাদের বাণিজ্যিক প্রসারের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে বড় ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেবল লজিস্টিক সাপোর্ট ও উৎসাহ জুগিয়েছে; আসল অর্জন আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। তবে এই অর্জনই শেষ নয়, এটি একটি নতুন শুরু মাত্র। অর্জিত এই অবস্থান ধরে রেখে এবং আরও নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষ্যে গবেষকদের সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, ‘আমাদের এই অসাধারণ অর্জনকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সহকর্মী গবেষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি উৎসর্গ করছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে যবিপ্রবি অবশ্যই এই সাফল্য অর্জন করতে পারবে। তবে এই অর্জনের মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গবেষণার যে উচ্চ শিখরে পৌঁছেছি, তা ধরে রেখে আরও নতুন উচ্চতায় উঠতে হবে। আর্থিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বা সুযোগ-সুবিধা প্রদানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্পণ্য করবে না, সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। বিশেষ করে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরাই আমাদের মূল শক্তি। এখন অর্জিত এই সাফল্য ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে এবং যবিপ্রবিকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে হবে।’

‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত মেলায় যবিপ্রবির পক্ষ থেকে ন্যানো-ইউরিয়া, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় স্মার্ট সেন্সর, ন্যানো-ক্যারিয়ার ড্রাগ, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রিবায়োটিক এবং সরাসরি পানি থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়।

যবিপ্রবির প্রদর্শিত উদ্ভাবনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের পরিচালিত ‘ন্যানো ইউরিয়া’ গবেষণা প্রকল্প। প্রচলিত ইউরিয়ার বিকল্প হিসেবে কৃষকের ব্যয় ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে ন্যানো ইউরিয়ার সম্ভাবনা ও কার্যকারিতার প্রশংসা করেন গবেষকরা।

ইনোভেশন ফেয়ারে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন যবিপ্রবি, ক্যাম্পাসে আনন্…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০০ মাদ্রাসায় ভোকেশনাল কোর্স চালুর দাবি
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাবি শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের হেনস্তার প্রতিবাদে ৪ দফা দাবি শ…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬৪ জেলায় বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, আবে…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ কবে, জানাল ইসি
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষকদের বদলি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে সভার গুঞ্জন, যা জানা যাচ্ছে
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9