২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)। তবে প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১৮ বছর পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টির ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেকচার প্রোগ্রাম এখনো দেশের দুই প্রধান পেশাগত সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) এবং ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ’র (আইএবি) অ্যাক্রেডিটেশন পায়নি। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাবিপ্রবিতে বর্তমানে পাঁচটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রয়েছে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইসিই), ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই), কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং। এছাড়া রয়েছে একটি আর্কিটেকচার বিভাগ।
ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামগুলো চার বছর এবং আর্কিটেকচার প্রোগ্রাম ৫ বছর মেয়াদি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামগুলোর মান নির্ধারণ করে বোর্ড অব অ্যাক্রেডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন (বিএইটিই), যা আইইবির অধীনস্থ। অন্যদিকে আর্কিটেকচার প্রোগ্রামের মান মূল্যায়ন করে বোর্ড অব আর্কিটেকচারাল এডুকেশন (বিএই), যা আইএবির নিয়ন্ত্রণাধীন।
দীর্ঘ ১৮ বছর পার হলেও আইইবি ও আইএবি স্বীকৃতি না থাকায় তারা চাকরির বাজারে বড় ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে সরকারি চাকরি, বড় অবকাঠামো প্রকল্প এবং পেশাগত লাইসেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। তাদের মতে, একই ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও অন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় তারা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
অ্যাক্রেডিটেশন পেতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে মানসম্মত কারিকুলাম, ১:২০ শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, আধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধা এবং আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই) পদ্ধতির বাস্তবায়ন। আর্কিটেকচারের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় পর্যাপ্ত ডিজাইন স্টুডিও, মডেল মেকিং ল্যাব, কম্পিউটারভিত্তিক ডিজাইন সুবিধা, জুরি স্পেস এবং সমৃদ্ধ লাইব্রেরি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগে ল্যাবরেটরি সুবিধা ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল ইকুইপমেন্ট সীমিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে কিছু বিভাগে স্থায়ী শিক্ষক সংকট, বিশেষ করে সিনিয়র শিক্ষকের অভাব এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত কাঙ্ক্ষিত মানে না পৌঁছানো অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৮ বছর পার হলেও আইইবি ও আইএবি স্বীকৃতি না থাকায় তারা চাকরির বাজারে বড় ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে সরকারি চাকরি, বড় অবকাঠামো প্রকল্প এবং পেশাগত লাইসেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। তাদের মতে, একই ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও অন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় তারা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: চার চিকিৎসক, এক নার্সে চলছে বেরোবির মেডিকেল সেন্টার, বেহাল চিকিৎসা ব্যবস্থা
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সৌমিক সরকার শ্রাবণ বলেন, ‘আমরা একই ডিগ্রি অর্জন করলেও স্বীকৃতির অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। চাকরির বাজারে এটি বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থাপত্য বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ডিগ্রি শেষ করার পরও পেশাগত স্বীকৃতি না থাকায় আমরা নিজেদের কাজেও স্বাক্ষর করতে পারি না। এতে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।’
এ বিষয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘আইইবি অ্যাক্রেডিটেশনের কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিটি বিভাগে আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে শিক্ষক সংকটের কারণে কাজের গতি কিছুটা ধীর।’
আইএবি অ্যাক্রেডিটেশন কমিটির দায়িত্বে থাকা স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক বিজয় দাস গুপ্ত বলেন, ‘আইএবি অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য প্রয়োজনীয় রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে অবকাঠামোগত ঘাটতি বিশেষ করে ক্লাসরুম, স্টুডিও ও লাইব্রেরির সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলেই আমরা অ্যাক্রেডিটেশন পেয়ে যাব বলে আশা করি।’