লোগো © ফাইল ছবি
মুছে ফেলা একটি ফেসবুক পোস্ট, কিন্তু থেকে যাওয়া স্ক্রিনশট—সেটিকেই ঘিরেেই মারধরের শিকার হয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কর্মচারী। বহু আগেই ডিলিট করা পোস্টের জেরে তাদের ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
মারধরের শিকার কর্মচারীরা হলেন, শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের আশরাফ উদ্দিন অপু এবং মেডিক্যাল সেন্টারের কম্পাউন্ডার সৈকত হোসাইন।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ওলিউল্লাহ, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের নয়ন খান, ব্যবসায় প্রশাসন (বিবিএ) বিভাগের হৃদয় খান, স্বপ্নীল পোদ্দার, রসায়ন বিভাগের রনি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের রঙ্গণসহ আরো কয়েকজন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ওলিউল্লাহর নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী প্রথমে মেডিকেল সেন্টারের কম্পাউন্ডার সৈকত ও পরবর্তীতে শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন অপুকে ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এক পর্যায়ে তারা ঐ দুই কর্মচারীকে চড়-থাপ্পড় এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। এরপর এদের দুইজনকে নিয়ে মেডিকেল সেন্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সামনে আগামীতে ফেসবুকে সরকারের বিরুদ্ধে কোন পোস্ট দিবেনা এবং ঘটনা এখানেই শেষ বলে মুচলেকা নেওয়া হয়।
মেডিকেল সেন্টার কর্মচারী সৈকত হোসাইন বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হঠ্যাৎ করে আমার অফিসে এসেই আমাকে বলেন যে, এই ফেসবুক পোস্ট আপনার কিনা। আমি হ্যাঁ, বলার সাথে সাথেই আমাকে মারধর শুরু করে। ওই ফেসবুক পোস্ট আমি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে দিয়েছিলাম। পরে এই পোস্ট ডিলেটও করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এই পোস্ট নিয়েই আমাকে মারধর করলো।’
মারধরের শিকার আরেক কর্মচারী আশরাফ উদ্দিন অপু বলেন, ‘আমি ট্রেজারার স্যারের অফিস থেকে বের হয়ে ব্যাংকের দিকে যাচ্ছিলাম। তৃতীয় তলার সিঁড়ির পাশে পৌঁছালে পেছন থেকে কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরে। তারা একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশর্ট দেখিয়ে জানতে চায় সেটি আমার কিনা। আমি স্বীকার করলে তারা বলে—সরকারি চাকরিজীবী হয়ে কেন সরকারের সমালোচনা করেছি। এরপর তারা আমাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। পরে অন্য কর্মকর্তারা এগিয়ে এলে তারা চলে যায়।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ওলিউল্লাহ বলেন, ‘পোস্ট দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী সেখানে গিয়েছিল। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম, তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
আরেকজন অভিযুক্ত নয়ন খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি; পরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি মীমাংসা করা হয়ে গেছে। ঐ দুইজন কর্মচারী তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে ও মাফ চেয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন, ‘দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’