ভারী বর্ষণে রুয়েটের আবাসিক হলে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

১২ জুন ২০২৬, ১১:২৪ AM
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা © টিডিসি সম্পাদিত

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে ভারী বৃষ্টিপাতের পর বিভিন্ন আবাসিক হলে জলাবদ্ধতা ও বৃষ্টির পানি প্রবেশের ঘটনায় দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব এবং ভবনের কিছু স্থাপত্যগত ত্রুটির কারণে হলের বিভিন্ন অংশে পানি জমে থাকছে বলে অভিযোগ করেছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

‎বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ছাত্র হল-২ এ দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টিপাতের পর হলের দুই পাশের ওয়াশরুমের জানালা, লিফটসংলগ্ন জানালা এবং সিঁড়িঘরের জানালা দিয়ে বৃষ্টির পানি ভবনের ভেতরে প্রবেশ করছে। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় করিডোর ও বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পা পিছলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

‎এ বিষয়ে ছাত্র হল-২ এর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু করিডোর বা সাধারণ স্থানেই নয়, অনেক কক্ষের জানালা দিয়েও বৃষ্টির পানি প্রবেশ করছে। এতে বইপত্র, আসবাবপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কয়েকটি কক্ষে সাময়িক মেরামতের কাজ করা হলেও এখনো একাধিক কক্ষে একই সমস্যা রয়ে গেছে।’

‎শিক্ষার্থীদের দাবি, ভবনের দুর্বল স্থাপত্য নকশা এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই প্রতিবার বৃষ্টিতে এই সমস্যার হচ্ছে। এদিকে বৃষ্টির পর দ্রুত পানি অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবারই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

‎একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নব নির্মিত ছাত্রী হল দুটি থেকেও। ছাত্রী হল-২ ও মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসমিম ইসলাম ছোঁয়া বলেন, ‘হলের প্রতিটি ফ্লোরের ৩ নম্বর কক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানিজনিত সমস্যায় ভুগছে। কক্ষগুলোর সামনের অংশ উন্মুক্ত থাকায় বৃষ্টির পানি সরাসরি দরজায় আঘাত করে এবং দরজার ফাঁক দিয়ে কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করে মেঝে ও খাটের নিচ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।’

‎তিনি জানান, সমস্যা সমাধানের জন্য দরজার বাইরে বিম স্থাপন, কার্পেট ব্যবহার এবং সিলিকন সিল্যান্ট প্রয়োগ করা হলেও কোনো পদক্ষেপই কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি একাধিকবার হল প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায়নি বলেও ক্ষোভ এই শিক্ষার্থীর। 

‎এদিকে ছাত্রী হল‌-১ ও ইউআরপি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সানজিদা খাতুন জানান, ‘৫০৩ নং রুমের সামনে খোলা জায়গা থাকায় রুমে এরকম বৃষ্টির পানি ঢুকে। আমরা যখন কুরবানির ঈদে ছিলাম না পলিথিন দিয়ে গিয়েছিলাম যেন পানি না যায় রুমে। তবুও বৃষ্টির পানি রুমে গেছে, এমনকি আমাদের নিচের দরজার রং উঠে গেছে। আমরা রুমে থাকলে কাপড় দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করি। আজকে বাতাস তুলনামূলক কম ছিল, তবুও পানি আসছে।’

‎আবাসিক শিক্ষার্থীদের মতে, এ পরিস্থিতি শুধু হলের পরিবেশের মান ক্ষুণ্ন করছে না, বরং স্বাস্থ্য ঝুঁকিও তৈরি করছে। গত ঈদুল আজহার ছুটির সময় কয়েকটি কক্ষে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় পোকামাকড়ের বংশবিস্তার ঘটে। ছুটি শেষে ফিরে এসে শিক্ষার্থীদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয় এবং নিজেদের উদ্যোগেই কক্ষ পরিষ্কার ও পোকামাকড় দমনের ব্যবস্থা নিতে হয়।

‎প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে এমন পরিস্থিতিকে হতাশাজনক আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা দ্রুত কার্যকর, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

ইট-বোতল-ভাঙা আয়না দিয়ে বাসের সিট দখল, কুবি শিক্ষার্থীদের ক্…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, কলেজশিক্ষক সাময়িক ব…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী আর নেই
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত তানভীরের আর যোগ দেওয়া হলো না, রেললাই…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে যুবককে মারধর, ১০ লাখ টাকা দাবি, ইউনিয়…
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬