নোবিপ্রবি লোগো © সংগৃহীত
অর্থ সংকটের অজুহাতে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) খেলোয়াড়রা। দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াররা।
জানা যায়, গত সোমবার থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে তিন দিনব্যাপী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্স (ছাত্র-ছাত্রী) ও বাস্কেটবল (ছাত্র) প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ওই দিন সকাল ১০টায় ইবির কেন্দ্রীয় অ্যাথলেটিক্স মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়, যা ৬ মে পর্যন্ত চলবে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবারের আসরে মোট ৩০টি ইভেন্টে দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করছে। সারা দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ প্রতিযোগিতা। বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতায় অ্যাথলেটিক্স, ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবলসহ একাধিক ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। উদ্বোধনী দিনে ছিল কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর পরিচিতি পর্ব। তবে এমন বড় আয়োজনে অংশ নিতে পারেনি নোবিপ্রবি অ্যাথলেটরা। খেলোয়াড়দের অভিযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে তাদের দলকে প্রতিযোগিতায় পাঠানো হয়নি।
একাধিক খেলোয়াড় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অর্থের অভাব দেখিয়ে অংশগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে। নোবিপ্রবি স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি ও জনপ্রিয় অ্যাথলেট জাহিদুল হক বলেন, ‘আমরা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য শরীরচর্চা বিভাগকে অবহিত করি। কিন্তু তারা আমাদের আর্থিক সংকট আছে বলে জানায়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ২০ বছর পার করলেও শিক্ষার্থীদের একটি টুর্নামেন্টে পাঠানোর সামর্থ্য নেই এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা জেনেছি, প্রতিষ্ঠালগ্নে যে বাজেট শরীরচর্চা বিভাগকে দেওয়া হতো, এখনো সেই বাজেটই দেওয়া হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সব কিছুর পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয়নি শরীরচর্চা বিভাগের বাজেটের।’
২০২১-২২ সেশনের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও নোবিপ্রবি স্পোর্টস ক্লাবের সেক্রেটারি মো. আবু তাহের বলেন, ‘একজন অ্যাথলেট যখন জানতে পারে আর্থিক সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না, তখন সত্যিই অনেক খারাপ লাগে। একজন প্রতিযোগীর জন্য এটি শুধু একটি ইভেন্ট নয়, এটি নিজের পরিশ্রম প্রমাণ করার সুযোগ এবং নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব। সব কিছুর জন্য বাজেট থাকে, কিন্তু খেলাধুলা ও খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বারবার ‘সংকট’ শব্দটি শুনতে হয়। এই সংকটের শেষ কবে?’
এ বিষয়ে শরীরচর্চা দপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের বিষয়ে পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।’ তবে এ বিষয়ে দপ্তরের পরিচালক ড. রুহুল কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল, ক্রিকেট এবং ব্যাডমিন্টন টিম যাচ্ছে। আমাদের কোয়ালিফাইড এথলেট টিম নাই এবং যাওয়ার জন্য সুপারিশ বা আগ্রহ প্রকাশ করেনি। যার কারণে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এথলেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে নাই। অন্যান্য টিমগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে প্রতিযোগিতা আয়োজন হচ্ছে সেখানে অংশগ্রহণ করবে।’