যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

নতুন রিটেক নিয়মে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা, ৫০০ টাকার ফি লাফ দিয়ে হলো ৫ হাজার

০১ মে ২০২৬, ১১:৩৬ PM , আপডেট: ০২ মে ২০২৬, ০৮:১১ AM
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত

তৃতীয় বর্ষে উত্তরণের জন্য দ্বিতীয় বর্ষের মধ্যেই সকল পরীক্ষা সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা এবং প্রথম রিটেক পরীক্ষায় কোর্স কোড বা নাম পরিবর্তন হলে ও দ্বিতীয়বার রিটেক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে গেলে ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০০ টাকা ফি নির্ধারণের নতুন নিয়ম করেছে যশোর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। এতে বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের ছাত্রছাত্রীরা। নতুন এ নিয়মকে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক বলে অভিযোগ তাদের।

জানা গেছে, ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষ ও পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য যবিপ্রবি একাডেমিক কাউন্সিল নতুন একাডেমিক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী কোনো পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে প্রথমবার জুনিয়র ব্যাচের সঙ্গে ৫০০ টাকা ফি দিয়ে রিটেক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে পরবর্তীতে একই পরীক্ষায় পুনরায় অংশ নিতে হলে ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার টাকা ফি দিয়ে স্পেশাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া, কোনো রিটেক কোর্সের কোর্স কোড বা নাম পরিবর্তিত হলে প্রথমবার থেকেই ৫০০০ টাকা ফি দিয়ে স্পেশাল পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। একই সঙ্গে, কোনো শিক্ষার্থী যদি তার অকৃতকার্য পরীক্ষাসমূহ দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই সম্পন্ন করতে না পারে, তবে সেই শিক্ষার্থী তৃতীয় বর্ষে উত্তরণ করতে পারবে না।

এসব নিয়ম ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের আগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল না। তাই এ নিয়ম সমূহ বৈষম্যমূলক বলে দাবী ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের।

যবিপ্রবির নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী উর্মি খাতুন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, একই কোর্সে জুনিয়রদের সঙ্গে পরীক্ষা দিয়েও আমাদের অতিরিক্ত ফি প্রদান করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের ওপর গুরুতর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। তদুপরি, তৃতীয় বর্ষে উত্তরণের পূর্বে সকল রিটেক কোর্স সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। আমরা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং একটি ন্যায্য ও যৌক্তিক সমাধান দাবি করছি।

শুধুমাত্র কোর্স কোড পরিবর্তনের অজুহাতে ১০ গুন রিটেক ফি নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ অন্যায় ও শিক্ষার্থীদের প্রতি স্পষ্ট অবিচার। একাধিক রিটেক থাকলে এই অর্থের পরিমাণ আরও বেড়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর অসহনীয় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। তৃতীয় বর্ষে উত্তরণের পূর্বে সকল রিটেক সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ অবাস্তব ও অমানবিক— সামসাদ নাহার তিনা, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষ

ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম মিনহাজ বলেন, যবিপ্রবির নতুন অর্ডিন্যান্স আমাদের শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। যেখানে অন্যান্য ব্যাচগুলো একাধিকবার রিটেক দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে,সেখানে আমাদের জন্য সুযোগ মাত্র একবার যা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক। কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থতা বা অনিবার্য কারণে একবার অকৃতকার্য হলে তাকে বিশাল অংকের আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি সরাসরি ইয়ার ড্রপের আশঙ্কায় দিন কাটাতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, একই ক্যাম্পাসে নিয়ম ও সুযোগের এই ভিন্নতা আমাদের জন্য মানসিক এবং আর্থিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে কোনো বিশেষ করুণা নয়, বরং সবার জন্য সমান ও যৌক্তিক একটি শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা চাই।

আরও পড়ুন: লুঙ্গি-গামছা পরে ভাইভা বোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সামসাদ নাহার তিনা বলেন, আমরা এই অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানাই। শুধুমাত্র কোর্স কোড পরিবর্তনের অজুহাতে ১০ গুন রিটেক ফি নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ অন্যায় ও শিক্ষার্থীদের প্রতি স্পষ্ট অবিচার। একাধিক রিটেক থাকলে এই অর্থের পরিমাণ আরও বেড়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর অসহনীয় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

তিনা আরও বলেন, তৃতীয় বর্ষে উত্তরণের পূর্বে সকল রিটেক সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ অবাস্তব ও অমানবিক। এতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং মানসিক চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে। আমরা এই প্রহসনমূলক সিদ্ধান্তের অবিলম্বে বাতিল বা যৌক্তিক সংস্কার দাবি করছি।

এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিত্যানন্দ পাল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, রিটেক পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমাধানের চেষ্টা করছে এবং খুব দ্রুতই একটি সিদ্ধান্ত জানানো হবে। উপাচার্য স্যার আজ ডিনদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক মতামত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তাই শিক্ষার্থীদের সহনশীলতা বজায় রেখে ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ করছি।

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে প্রযুক্তি এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণ অত্যন…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সেস কলেজে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ফের কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ হোম ইকোনমিক্স শিক্ষার্থীদের
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী ও টিউশন ফি-মুক্ত উচ্চশ…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
মাদ্রাসার অভিভাবক সমাবেশে হামলা, মাদ্রাসা বন্ধের হুমকি
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950