বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের লবিতে চলছে ভোট গ্রহণ © টিডিসি
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ছাত্র হল ‘মির্জা আজম হল’-এর নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) শিক্ষার্থীদের গণভোট চলছে। সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের লবিতে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো কর্মী বা শিক্ষার্থী এ ভোটে অংশ নিতে পারছেন না।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ছাত্র হলের নামকরণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ওই সভায় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের লক্ষ্যে গণভোটের মাধ্যমে নাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছাত্র হলটির নামকরণ করা হয়েছিল স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের নামে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল।
এ দাবির প্রেক্ষিতে মির্জা আজমের মায়ের নামে থাকা একমাত্র ছাত্রী হলের নাম পরিবর্তন করে ‘অপরাজিতা’ নির্ধারণ করা হয়। ছাত্রীদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতবিরোধ না থাকায় সেখানে ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি।
তবে ছাত্র হলের নতুন নাম নির্ধারণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভক্ত মত দেখা দেয়। এক পক্ষ গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাকে ধারণ করে হলের নাম ‘বিজয় ২৪’ রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। অপর পক্ষ জামালপুরের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুফি সাধক ‘হযরত শাহ্জামাল (র.)’-এর নামে হলটির নামকরণের দাবি তোলে।
এই মতবিরোধ নিরসনে আজকের গণভোটে ‘বিজয় ২৪’ এবং ‘হযরত শাহ্জামাল (র.)’—এই দুই নামের মধ্য থেকে একটি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ভোটে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।
ভোট প্রদানকালে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাদের আইডি কার্ড নেই, বিশেষ করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অ্যাডমিট কার্ডের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কাউকে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না।
ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে। সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত নামটিই পরবর্তীতে ছাত্র হলের স্থায়ী নাম হিসেবে প্রশাসনিকভাবে অনুমোদন পাবে।