মুচলেখা নিয়ে কালো তালিকাভুক্ত ৭ প্রেসকে ক্ষমা করল এনসিটিবি

২৯ জুন ২০২৬, ০৬:৪৪ PM , আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ AM
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পাঠ্যবই

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পাঠ্যবই © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৬ সালে নিম্নমানের পাঠ্যবই ছাপা, সরবরাহসহ নানা অনিয়মের দায়ে কালো তালিকাভুক্ত সাত প্রেসকে মুদ্রণ কাজের অনুমোদন দিল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। অভিযুক্ত মালিকদের আবেদনের পর মুচলেখার মাধ্যমে ক্ষমা পেল প্রেসগুলো। সূত্র বলছে, সরকারের সফটনীতির কারণে অভিযুক্ত ওই সাতটি প্রেসকে সবুজ সংকেত দেয় এনসিটিবি।

এর ফলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে অন্যপ্রেসগুলোর সঙ্গে পাঠ্যবই ছাপানো কাজ পেতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। কালো তালিকাভুক্ত থেকে মুক্ত পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—মের্সাস নাহার প্রিন্টার্স, আমাজন প্রিন্টিং প্রেস, বর্ণমালা প্রেস, পিবিএস প্রিন্টার্স, টাঙ্গাইল অফসেট প্রেস, হাক্কানী প্রিন্টার্স, সোহাগী প্রিন্টার্স।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজে নিম্ন মানের কাগজ ব্যবহার এবং প্রিন্টিংয়ে লেখা ও ছবি ঝাপসা, কাটিং, বাইন্ডিংসহ শর্ত ভঙ্গ করে সাতটি প্রেস। এ ছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এনসিটিবির বিতরণ কেন্দ্রে বই পৌঁছাতে না পারার দায়ে প্রেসগুলোকে এক বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছিল এনসিটিবি। এক বছরের মধ্যে এনসিটিবির কোনো কাজে অংশ নিতে পারবে না প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে ৫ মাস না যেতেই প্রেসমালিকদের আবেদন ও মুচলেখার প্রেক্ষিতে ক্ষমা পান তারা।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ৩০ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি বই ছাপা হবে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ কপি, প্রাথমিক স্তরের জন্য সাত কোটি ৯৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৩৮ কপি এবং মাধ্যমিক স্তরের জন্য ২২ কোটি ১০ লাখ ৪২ হাজার ৯২৩ কপি বই ছাপা হবে। তবে অতিরিক্ত পাঠ্যবইয়ের তথ্য আসায় মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে এনসিটিবি। পরে পাঠ্যবইয়ের সংখ্যাও কমে আসে।

ক্ষমা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিটিবির ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তারা বলেন, ‘সফটনীতি ও সবাইকে নিয়ে চলার নীতিতেই মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে শর্তসাপেক্ষে আবারও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’

জানা গেছে, অনিয়মের অভিযোগে কালো তালিকাভুক্তির পর নতুন শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবইয়ের কাজ পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেন অভিযুক্ত প্রেসগুলোর মালিকরা। পরে তারা এনসিটিবির চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদন করেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে চলতি মাসেই একটি বোর্ড সভা করে এনসিটিবি। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক মুচলেখা দিতে বলে সংস্থাটি। পরে প্রেসমালিকরা মুচলেখা দিয়ে ক্ষমা পান। পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ পেতে টেন্ডারে অংশগ্রহণের তাদের সুযোগ দিচ্ছে সরকারের এই সংস্থাটি।

এনসিটিবির তালিকাভুক্ত মুদ্রণপ্রতিষ্ঠান হলো— ১০৭টি। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মোট ১০৬টি প্রেস কাজ করে। এই শিক্ষাবর্ষে এনসিটিবি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে ৩০ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহ করে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি স্তরে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬১টি এবং মাধ্যমিক স্তরে ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩টি বই সরবরাহ করা হয়েছে।

পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির ৬ হাজার ২৬টি বই এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৫টি পাঠ্যবই সরবরাহ করা হয়। তবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে অভিযুক্ত প্রেসগুলো কতগুলো নিম্নমান পাঠ্যবই ছাপায় তা জানায়নি এনসিটিবি। 

এদিকে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণে সম্পাদনা প্রায় শেষের দিকে। আগামী ২ জুলাই ট্রেন্ডার ওপেন হবে এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে বই মুদ্রণের জন্য প্রেসে চলে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: শেখ মুজিব হল নাম পরিবর্তনে ‘গড়িমসি’, সিদ্ধান্ত হয়নি হাদি হল নিয়েও, ওয়াকআউট সাদিক-ফরহাদদের

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ৩০ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি বই ছাপা হবে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ কপি, প্রাথমিক স্তরের জন্য সাত কোটি ৯৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৩৮ কপি এবং মাধ্যমিক স্তরের জন্য ২২ কোটি ১০ লাখ ৪২ হাজার ৯২৩ কপি বই ছাপা হবে। তবে অতিরিক্ত পাঠ্যবইয়ের তথ্য আসায় মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে এনসিটিবি। পরে পাঠ্যবইয়ের সংখ্যাও কমে আসে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কত সংখ্যা কমে আসে তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

মুচলেখা দিয়ে ক্ষমা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন আমাজন প্রিন্টিং প্রেসের মালিক মমিনুল হক। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি আবেদন করি, তারা আমাদের আবেদনের বিষয়টি বিবেচনায় নেয় এবং কালো তালিকাভুক্ত থেকে আমাদের নামটি সরিয়ে নেয়।’ আর মুচলেখা দিয়ে ক্ষমার বিষয়টিও স্বীকার করেন বর্ণমালা প্রেসের এক কর্মকর্তা।

হাক্কানী প্রিন্টার্সের মালিক মনির দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিষয়টি ভুলবুঝাবুঝির কারণে এনসিটিবি আমাদের কালো তালিকাভুক্ত করে। আমাদের বাইর্ন্ডিংস সরঞ্জাম না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে, এ তালিকা করা হয়। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা জানায়, যেহেতু এটি ভুলবুঝাবুঝি হয়েছে এবং তালিকাতেও উঠে গেছে। তাই একটি আবেদন দেওয়ার কথা জানালে আবেদন দিই এবং কালো তালিকাভুক্তি থেকে মুক্তি পাই।’

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সচিব অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌস দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘অভিযুক্ত প্রেসগুলো আবেদন করলে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের ক্ষমা করা হয়েছে।’

ঢাবির সিনেটে দুই বিরোধীদলীয় এমপিকে মনোনয়ন দেয়ার প্রস্তাব সা…
  • ৩০ জুন ২০২৬
বিয়ে না করায় ছুরিকাঘাতে তরুণ খুন, ‘প্রেমিকা’ আটক
  • ৩০ জুন ২০২৬
নাটকীয় ম্যাচে পেনাল্টিতে নেদারল্যান্ডসকে হারাল মরক্কো
  • ৩০ জুন ২০২৬
গোবিপ্রবির ২৪ শিক্ষার্থীর হাতে ট্রাস্ট বৃত্তি
  • ৩০ জুন ২০২৬
জয়ের পর সেই জার্মান অর্থনীতিবিদকে কটাক্ষ নেইমারের
  • ৩০ জুন ২০২৬
জার্মানিকে হারানোর পর জাতীয় ছুটি ঘোষণা প্যারাগুয়ের
  • ৩০ জুন ২০২৬