শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ৩ আগস্টের বৈঠকের রেজুলেশনের কী হবে?

১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৯ PM , আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৯ PM
শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয় © ফাইল ছবি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও আদেশ আকারে জারি না হওয়ায় সেটি চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষামন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর প্রশ্ন উঠেছে ৩ আগস্টের সভার রেজ্যুলেশনের কী হবে, তা নিয়ে।

বিষয়টি জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। তারা বলছেন, আগের সভার কার্যবিবরণীতে ওঠা সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হলে পুনরায় নির্বাহী বোর্ডের সভা করতে হবে। এরপর পুনরায় রেজুলেশন করে বিষয়টি জানাতে হবে। তবে সরকার বা মন্ত্রণালয় চাইলে জনগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নিজেরাও রেজুলেশন বাতিল করতে পারে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এনটিআরসিএর সাবেক এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সভার রেজুলেশন সরকার বা মন্ত্রণালয় চাইলে যে কোনো সময় বাতিল করতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করতে হলে পুনরায় বোর্ড সভা করতে হবে। এরপর আগের কার্যবিবরণীর যে সিদ্ধান্ত নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেটি বাতিল করা হলো মর্মে সিদ্ধান্ত নিয়ে সে বিষয়ে পুনরায় রেজুলেশন করতে হবে।’

গত ৩ আগস্ট বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান সভাকে অবহিত করেন, ২০০৫ সনের ১ নং আইন ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫' এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণীত ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নিরূপন ও এতদ্বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রতি পঞ্জিকা বর্ষে অন্তত একবার পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা রয়েছে। 

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) হতে সর্বশেষ ২০২৩ সালে নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সে প্রেক্ষিতে ১৯তম এনটিআরসিএ শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা প্রয়োজন।

`সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হবে। এনটিআরসিএ আর নিয়োগ সুপারিশ করবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হবে।’

সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন জানান, ‘২০০৫ সাল হতে ২০১৫ সালের পূর্বে এনটিআরসিএ কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতো। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগ সুপারিশ করার পর থেকে বিভিন্ন জটিলতা, মামলা এবং অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।’

তিনি আরও জানান, ‘বর্তমানে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং একটি সুস্থ ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নিমিত্তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এনটিআরসিএর বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে পূর্বের ন্যায় এনটিআরসিএ কর্তৃক কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং প্রত্যায়নপত্র শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের স্ব স্ব ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কর্তৃক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যার সমাধান করা যেতে।’ শিক্ষামন্ত্রীর অভিমতের সঙ্গে সভায় উপস্থিত সকলে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন। 

কার্যবিবরণীতে সভার সিদ্ধান্তে লেখা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগ সুপারিশ করবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।’ শুধু তাই নয়, সভার সিদ্ধান্ত মতে, ‘১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯৮৪২ জন তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিপত্র/প্রজ্ঞাপন সংশোধন/জারি করতে হবে।’

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহ প্রশাসনিক অনুমোদনের পর অর্থাৎ শিক্ষামন্ত্রী এবং এ সংক্রান্ত আদেশ/পরিপত্র/প্রজ্ঞাপন প্রয়োজনীয় সংশোধন করত: আদেশ জারি করা হবে।'

এ সংক্রান্ত সংবাদটি প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, 'বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০০৫ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। এনটিআরসিএর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দরভাবে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা অব্যাহত রেখেছে। ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এ বিষয়ে কোনো  অপতথ্য প্রচার না করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ রইল।'

স্কুলছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে যুবককে মারধর, হাসপাতা…
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে জাতীয় সংসদ
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
১৩ শিক্ষকের ১৩ পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ নায়েম পরিচাল…
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
২২৬ মাদ্রাসার প্রধানকে শোকজ শিক্ষা বোর্ডের, দেখুন তালিকা
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ বাতিল চেয়ে ইউএনও অফিস ভাঙচুর
  • ১১ আগস্ট ২০২৬