শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী © ফাইল ছবি
চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মহানগরীর নির্দিষ্ট কিছু স্কুল-কলেজে অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতি মিলিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে সাপ্তাহিক ছুটি একদিন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকায় যেখানে যানজট বেশি এবং শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াত করে, সেসব প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিনদিন অনলাইন ক্লাস নেওয়া হবে। এতে করে জ্বালানি ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি যানজটও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে, তারা চাইলে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে পারবে। এই হাইব্রিড পদ্ধতিতে সপ্তাহে ছয়দিন শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হবে। এর ফলে বর্তমানে প্রচলিত শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্কুল-কলেজের সাপ্তাহিক ছুটি কমার বিষয়ে জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। তবে তারা কেউ এ বিষয়ে নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘স্কুল-কলেজে সাপ্তাহিক ছুটি কমা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে শিক্ষামন্ত্রী যদি শনিবারে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের কথা বলে থাকেন; তাহলে সাপ্তাহিক ছুটি কমবে বলেই মনে হচ্ছে। হয়তো আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে স্কুল-কলেজে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আগামী সপ্তাহেই পরীক্ষামূলক এই ব্লেন্ডেড পদ্ধতি শুরু হবে। ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি চালু হচ্ছে।
তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাশ হবে। এর মধ্যে তিন দিন অনলাইনে ও তিনদিন সশরীরে ক্লাশ হবে।
মন্ত্রী বলেন, শনি, সোম ও বুধবার সশরীরে ক্লাশ হবে। আর রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাশ হবে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। শিক্ষকেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ক্লাশ নেবেন। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি চালু করতে সক্ষম, সেখানেই তা চালু হবে।