অনলাইন ক্লাস চান না শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৯ PM , আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩০ PM
শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা

শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা © সংগৃহীত

অনলাইন ক্লাসে ‘না’ জানিয়ে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। তাদের মতে, অনলাইন শিক্ষায় ডিভাইস সংকট, ইন্টারনেট ব্যয় ও পাঠে মনোযোগ ধরে রাখার সীমাবদ্ধতা যেমন রয়েছে, তেমনি মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মধ্যে আসক্তি বাড়ানোর ঝুঁকিও তৈরি করছে। 

বুধবার (৮ এপ্রিল) বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার উপায় নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা এসব উদ্বেগ তুলে ধরে সরাসরি ক্লাস চালু রাখার পক্ষে জোরালো মত দেন।

আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নিশাত তিথি বলল, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি এবং তাদের পড়ালেখা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করলে সে অনলাইন ক্লাসের পক্ষ নয়। অনলাইন ক্লাস বিভিন্ন রকমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এতে পড়াশোনায় ঘাটতি পড়বে বলে সে মনে করে।

অনলাইন ক্লাসের যে চিন্তা তা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সমস্যা হবে বলে মনে করেন মাদ্রাসাছাত্র কামাল হোসেন। এ সময় তিনি কোভিড-১৯–এর সময় অনলাইন ক্লাসের সমস্যার কথা উল্লেখ করেন।

হজরত শাহ আলী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর অভিভাবক শাহিদা বেগম বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি অনলাইন ক্লাস না করে যেখানে পাঁচ ঘণ্টার ক্লাস হবে, সেখানে তিন ঘণ্টা ধরে দিল। যাতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। সেটা করা হলে ভালো হয়।’

আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক প্রতিনিধি আক্তার বলেন, ‘ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহারে শিশুদের চোখের ও মানসিক সমস্যা হচ্ছে। যানজট নিরসনে অনলাইন ক্লাসের বদলে স্কুল বাস বা গ্রুপ ট্রান্সপোর্ট চালু করা যেতে পারে।’ 

নারিন্দা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা আক্তার ছয়টি পিরিয়ডের বদলে চারটি পিরিয়ড করার এবং এসি বন্ধ রেখে দিনের আলোতে ক্লাস নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র-শনিবারের পরিবর্তে এলাকাভেদে ভিন্ন দিনে দিয়ে যানজট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। এছাড়া কার-পুলিং (এক গাড়িতে চারজন) পদ্ধতি চালুর ওপর জোর দেন তিনি।’

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘শিক্ষা কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ রাখা ঠিক হবে না। সংকট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি মোকাবিলা করতে হবে, যাতে কোনো গোষ্ঠী একে রাজনৈতিক ইস্যু করতে না পারে।’

যা বললেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী
তবে সারা দেশ নয়, মহানগরেরও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, যানজট ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় পরীক্ষামূলকভাবে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিলে অবস্থিত আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো নির্ধারিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে সশরীর ও অনলাইনে ক্লাসের সমন্বিত (হাইব্রিড বা ব্লেন্ডেড) পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মের নতুন শিক্ষাধারা তাঁরা আস্তে আস্তে প্রবর্তন করতে চান। এ বিষয়ে ‘ইয়েস অর নো’ জবাব দিতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বললে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ‘ইয়েস’ বলে চিৎকার করেন।

সীমিত পরিসরে খুলল জরুরি বিভাগ, ২৪ ঘণ্টায় তদন্ত দৃশ্যমান না …
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
অনুমতি ছাড়া হরমুজ দিয়ে জাহাজ চালালে ধ্বংস করা হবে, সতর্কতা…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
মার্কেট আউট তিন ইনজেকশনের জেরে ঢামেক চিকিৎসক-ঢাবি শিক্ষার্থ…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
বিএনপি নেত্রীদের বাইরে পেতে যাচ্ছেন জোট শরীকরাও
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সহায়তাকেন্দ্র স্থাপনে ডিপিডিটি–ড্যাফোডি…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
চিকিৎসক-শিক্ষার্থী দ্বন্দ্বে ঢামেক হাসপাতালে জরুরি বৈঠক শুরু
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
close