১৬ হাজার শিক্ষকের আবেদন জটিলতা
মেমিস সফটওয়্যারে আবেদন ও সরকারের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
‘কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা সত্ত্বেও উচ্চতর গ্রেডে আবেদন করতে পারছেন না ১৬ হাজার শিক্ষক’ শিরোনামে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। রবিবার (৫ এপ্রিল) এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে অধিদপ্তর। পরে একটি জরুরি বৈঠক করে ‘ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড’ পেতে আবেদনের জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ নেয় এবং নীতিমালা সংশোধনের জন্য শিক্ষামন্ত্রণালয় বরাবর একটি চিঠি পাঠায় বলে অধিদপ্তরের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও যুগ্মসচিব মুহাম্মদ মাহবুবুল হক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর পরিশিষ্ট-ঘ এর ক্রমিক ৪০-এ বর্ণিত ইবতেদায়ি মৌলভী পদের শিক্ষাগত যোগ্যতায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড অথবা কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ফাজিল ডিগ্রি এবং অন্যান্য যোগ্যতা, ৪১-এ বর্ণিত ইবতেদায়ি শিক্ষক পদের শিক্ষাগত যোগ্যতায় সরকার স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হতে/বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড হতে ফামিল/সসমান ডিগ্রি ও ৪২-এ বর্ণিত ইবতেদায়ি কারী পদের শিক্ষাগত যোগ্যতায় রেজিস্ট্রেশনকৃত নূরানী/দরসে কিরাআহ/হাফিজে কুরআন/দাখিল মুজাব্বিদ/আলিম মুজাব্বিদ-মাহিরসহ ফাযিল ডিগ্রি যোগ্যতার কথা বলা আছে এবং উল্লেখিত পদসমূহের বেতন স্কেল ও গ্রেড-এর কলামে গ্রেড-১৬ উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ৪০, ৪১ ও ৪২-এ বর্ণিত পদসমূহে পূর্বের নিয়োগকৃতরা কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে ১৩-গ্রেড প্রাপ্ত হবেন মর্মে বলা আছে।
এক্ষেত্রে যদি পূর্বের নিয়োগকৃতরা কাঙ্খিত যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে ১৩-গ্রেড প্রাপ্ত হয়, তাহলে একই যোগ্যতায় নতুন নিয়োগকৃতরা ১৬তম গ্রেড প্রাপ্ত হলে বৈষম্য তৈরি হবে। তাই এ পদের বেতন স্কেল ও গ্রেড সংশোধন করা প্রয়োজন।
এমতাবস্থায়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর পরিশিষ্ট-ঘ-এর ক্রমিক ৪০, ৪১ ও ৪২-এ বর্ণিত ইবতেদায়ি মৌলভী, ইবতেদায়ি শিক্ষক ও ইবতেদায়ি কারী পদের বেতন স্কেল ও গ্রেডের অংশটি সংশোধন করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন : কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা সত্ত্বেও উচ্চতর গ্রেডে আবেদন করতে পারছেন না ১৬ হাজার শিক্ষক
সংশোধীত অংশটি হলো—
ইবতেদায়ি মৌলভী পদে—বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড অথবা কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ফাজিল ডিগ্রি; দাখিল ও আলিমসহ কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে আরবী বিষয়সমূহে (আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দা'ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল ফিকহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আরবী, আরবি ভাষা ও সাহিত্য, ইসলামিক স্টাডিজ সহ অন্যান্য) স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রী; পূর্বের নিয়োগকৃতরা কাঙ্খিত যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে ১৩ গ্রেড প্রাপ্ত হবেন। সমগ্র শিক্ষা জীবনে যেকোনো ১টি ৩য় বিভাগ বা শ্রেণী গ্রহণযোগ্য হবে।
ইবতেদায়ি শিক্ষক পদে—সরকার স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হতে/বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড হতে ফাজিল/সমমান ডিগ্রি; পূর্বের নিয়োগকৃতরা কাঙ্খিত যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে ১৩ গ্রেড প্রাপ্ত হবেন; সমগ্র শিক্ষা জীবনে যেকোনো ১টি ৩য় বিভাগ বা শ্রেণী গ্রহণযোগ্য হবে।
ইবতেদায়ী ক্বারী পদে—রেজিষ্ট্রেশনকৃত নুরানী/দরসে, কিরাআহ/হাফিজে কুরআন/দাখিল মুজাব্বিদ/ আলিম মুজাব্বিদ-মাহিরসহ ফাযিল ডিগ্রি আছে তারা ১৩তম গ্রেডে আবেদন করতে পারবেন। তবে পূর্বের নিয়োগকৃতরা কাঙ্খিত যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে ১৩ গ্রেড প্রাপ্ত হবেন।
জানা গেছে, কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা (ফাজিল বা সমমান ডিগ্রি) স্বত্বেও ইবতেদায়ীর ৩ পদে উচ্চতর গ্রেড পেতে মেমিস সফটওয়্যারে গ্রেড উন্নয়নের প্রয়োজনীয় অপশন ও প্রক্রিয়া চালু না থাকায় আবেদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মাদ্রাসার প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ৪০ (৩), ৪১ (২) ও ৪২ (২) অনুযায়ী যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সংযুক্ত ইবতেদায়ি শিক্ষক/মৌলভী/ ক্বারী পদে গ্রেড-১৩ প্রাপ্তির জন্য বলা হলেও নীতিমালায় বেতন স্কেল ও গ্রেডে ১৬ উল্লেখ রয়েছে। এতে শিক্ষকরা মেমিস সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন করতে গেলে তা রিজেক্ট হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সোমবার একটি জরুরি বৈঠক করে মাদ্রাসা অধিদপ্তর এবং নীতিমালায় থাকা গ্রেড-১৬ থেকে গ্রেড-১৩ করে সংশোধনের জন্য মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ বরাবর একটি চিঠি পাঠায়।