ছেলের উদাহরণ টেনে স্কুল খুলে দেওয়ার আহবান ট্রাম্পের

ছেলের উদাহরণ টেনে স্কুল খুলে দেওয়ার আহবান ট্রাম্পের
  © ফাইল ফটো

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে মহামারীর কারণে বন্ধ সব স্কুল যত দ্রুত সম্ভব খুলে দেওয়ার আহবান জানাতে গিয়ে কিছুদিন আগে তার ছেলে ব্যারনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উদাহরণ টেনেছেন। বুধবার আইওয়ার ডে মইনে বিমানবন্দরে রিপাবলিকান শিবিরের নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে তিনি এ উদাহরণ টানেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এমনকি আমার মনেই হয় না যে সে জানতো সে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত, এর কারণ তারা অল্প বয়সী এবং তাদের শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লড়াই করে সেটিকে থামিয়ে দিয়েছে। ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ (জীবাণুমুক্ত হয়েছে) এবং ব্যারন এখন চমৎকার আছে। সে মুক্ত।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তার প্রশাসনের ব্যর্থতায় ব্যাপক চাপের মুখে থাকা রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যকে বন্ধ স্কুলগুলো খুলে দিতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে রাজি করানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

তবে শিক্ষকদের ইউনিয়নগুলো ট্রাম্পের এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের ভাষ্য, শিশুরা তুলনামূলক সুরক্ষিত থাকলেও তাদের মাধ্যমে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস শিক্ষকদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। ট্রাম্প অবশ্য এই যুক্তির ধার ধারছেন না।  

ট্রাম্প বলেন, শনাক্তকরণ পরীক্ষায় ব্যারনের ফল পজেটিভ এসেছিল। মাত্র দুই সেকেন্ডের মধ্যে তাকে দেখায় যে সে ঠিক আছে। পরে শনাক্তকরণ পরীক্ষায় তার নেগেটিভ এসেছে। তাই না? কারণ, এটাই ঘটবে। তারা আক্রান্ত হবে এবং এটি চলে যাবে। শিশুদের স্কুলে ফেরত পাঠান, আমাদের অবশ্যই বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া উচিত।

এর আগে বুধবার মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া এক বিবৃতিতে তাদের সমসাময়িক সময়ে ব্যারনও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল বলে জানান। বলেন তিনি, সৌভাগ্যক্রমে সে একজন শক্তিশালী কিশোর আর তার মধ্যে কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

রয়টার্স জানিয়েছে, নির্বাচনের সপ্তাহ তিনেক আগে ট্রাম্প এখন যেসব রাজ্যে সমাবেশ করছেন, সেই ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেটগুলোতে চার বছর আগে জিতলেও রিপাবলিকান এ প্রার্থী এবার ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের কাছে হেরে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ের সর্বশেষ জনমত জরিপে বাইডেনের চেয়ে ট্রাম্পকে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকতেও দেখা যাচ্ছে। তবে ব্যাটলগ্রাউন্ড খ্যাত রাজ্যগুলোতে দুই প্রার্থীর ব্যবধান তুলনামূলক কম। বুধবার রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসসের প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপে ফ্লোরিডায় ট্রাম্প ও বাইডেনের পক্ষে যথাক্রমে ৪৭ ও ৪৯ শতাংশের সমর্থন দেখা গেছে।

আইওয়ার সমাবেশে ট্রাম্প অবশ্য তার জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, আজ থেকে ২০ দিন পর আমরা এই রাজ্যে জিততে যাচ্ছি।

ট্রাম্প অন্তঃহীন যুদ্ধ বন্ধে আফগানিস্তান থেকে শিগগিরই বেশিরভাগ সৈন্য ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এদিন তার সমাবেশে উপস্থিত অনেকের মুখেই ছিল না মাস্ক; সহজলভ্য এ উপকরণকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা সরঞ্জাম বলা হচ্ছে। ডিসেম্বরে চীনের উহানে আবির্ভূত হওয়া এই ভাইরাস এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার নর্থ ক্যারেলাইনা ও ফ্লোরিডায় থাকার পর শুক্রবার ফ্লোরিডা ও মিশিগানে প্রচার চালাবেন ট্রাম্প। শনিবার তার মিশিগান ও উইসকনসিনে বক্তৃতা দেওয়ার কথা রয়েছে। এ সবগুলো রাজ্যেই ২০১৬ সালের নির্বাচনে জিতেছিলেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসে থাকতে হলেও এ রাজ্যগুলোতে জয়ী হওয়া তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

শনিবার রাতে ট্রাম্প নেভাদার লাস ভেগাসে থাকবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে, এরপরই তিনি ছুটবেন পশ্চিমের রাজ্যগুলোতে।


মন্তব্য