হামদর্দ পাবলিক কলেজ
হামদর্দ পাবলিক কলেজ © টিডিসি ফটো
হামদর্দ পাবলিক কলেজ। রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র পান্থপথের চৌরাস্তায় অবস্থিত কলেজটি যেন শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষা-শৃঙ্খলা-নৈতিকতা ও মানবিকতাকে সমন্বয়ে গড়া এক আলোকবর্তিকা। ২০১০ সালের মাত্র ১৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যে যাত্রা শুরু করেছিল কলেজটি, আর আজ তা পরিণত হয়েছে দেশের অন্যতম মানসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য মডেল শিক্ষালয়ে। কলেজ কর্তারা বলছেন, হামদর্দ কলেজ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের ‘জিপিএ-৫’ অর্জন নয়; বরং তাদের শিক্ষা, চরিত্র গঠন এবং সামাজিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে একজন মানবিক-যোগ্য ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ তৈরি করা। প্রতিষ্ঠার পর গত এক দশকে দেশের শিক্ষাঙ্গণে যে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে শিক্ষালয়টি, সেটিই এই প্রতিষ্ঠানকে দিন দিন রাজধানীর পাশাপাশি পুরো দেশের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের তথ্য, ‘জ্ঞানে অগ্রগতি, শিক্ষায় অগ্রগতি’ স্লোগান ধারণ করা হামদর্দ পাবলিক কলেজটি প্রতিষ্ঠা ও এগিয়ে নিতে পেছন থেকে যিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি হলেন হামদর্দ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হামদর্দ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাসচিব ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া; যিনি শুধু একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা নন, বরং একজন শিক্ষানুরাগী এবং মানবকল্যাণে নিবেদিত প্রাণ। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজন গুণগত শিক্ষা এবং আদর্শভিত্তিক মনন গঠন। সেই বিশ্বাস থেকেই হামদর্দ পাবলিক কলেজ গড়ে ওঠে একটি স্বতন্ত্র রূপরেখা ও দর্শনের উপর ভিত্তি করে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আজও কলেজটির প্রতিটি ধাপে ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুনের সেই দর্শনের প্রতিফলন দেখা যায়। সেই বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত হামদর্দ পাবলিক কলেজ এগিয়ে চলছে নির্ভরতার সঙ্গে আদর্শ, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার এক নতুন মানদণ্ড হয়ে।
কলেজের বর্তমান চিত্র
মাত্র ১৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা হামদর্দ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার। তবে এই অগ্রগতির প্রকৃত সাফল্য শুধু সংখ্যায় নয়, বরং মানে অটুট রেখেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ১৩ বছর ধরে কলেজটি ধারাবাহিকভাবে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব ধরে রেখেছে, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জনে সফলতা অর্জন করেছেন। এসএসসি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ফলাফলে গড়মান নিয়মিতভাবে উন্নতির দিকেই রয়েছে। শুধু পরীক্ষার ফলাফলে নয়, শিক্ষার্থীরা বুয়েট, মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের সেরা সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ রেখে চলেছে। পাশাপাশি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন বিসিএস ক্যাডার, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ নানা পেশায়। হামদর্দ পাবলিক কলেজ তাই আজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দৃঢ় ভিত্তি, যেখানে ভবিষ্যতের নির্মাণ ঘটে নৈতিকতা, মেধা ও স্বপ্নের সংমিশ্রণে।
সাফল্যের পেছনের শক্ত ভিত্তি
হামদর্দ পাবলিক কলেজের এ ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে সুসংগঠিত ও দূরদর্শী এক টিম ওয়ার্ক। অভিজ্ঞ অধ্যক্ষের নেতৃত্বে একটি দক্ষ, মেধাবী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকমণ্ডলীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা পাঠদানে যেমন যত্নবান, তেমনি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিক্ষার পাশাপাশি হামদর্দ পাবলিক কলেজে গুরুত্ব দেওয়া হয় সহশিক্ষা কার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও সক্ষমতার পরিসর প্রসারিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে কলেজের সামাজিক ও ক্যারিয়ার গঠন ভিত্তিক ১৭টি ক্লাব। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিকে আরও মনোযোগী ও কার্যকর করতে নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি রয়েছে বাধ্যতামূলক স্পেশাল ক্লাস ও কুইজ (SCQ) সেশন। শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই মেধাভিত্তিক শ্রেণি বিন্যাস নিশ্চিত করা হয়, যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী উপযুক্ত পরিবেশে শিখতে পারে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও ব্যক্তিগত অগ্রগতির দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখতে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন ক্লাস কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন গাইড শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন। এমনকি যেসব শিক্ষার্থী দুর্বল বা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়, তাদের জন্য রয়েছে বিশেষভাবে গঠিত ‘ফেইল রিকভারি টিম (FRT)’; যা শিক্ষার্থীদের একাডেমিকভাবে গড়ে তোলে আরও শক্তিশালী করে।
শুধু তাই নয়, হামদর্দ পাবলিক কলেজের অগ্রযাত্রার পেছনে কলেজ গভর্নিং বডির সম্মানিত সভাপতি ও হামদর্দ বাংলাদেশের সিনিয়র পরিচালক (মার্কেটিং ও সেলস এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুনের মানবিক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার সুপরিকল্পিত দিকনির্দেশনা, নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং কার্যকর প্রচেষ্টায় কলেজটি এগিয়ে যাচ্ছে সফল ও অগ্রগতির পথে। অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুনকে সহায়তা করছে একটি বিদ্যানুরাগী গভর্নিং বডি, সচেতন অভিভাবকমণ্ডলী, শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক সমাজ; যাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছে সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
অবকাঠামো ও পরিবেশ
রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র পান্থপথের চৌরাস্তায় অবস্থিত হামদর্দ পাবলিক কলেজ; নগরজীবনের কোলাহলের মাঝে এক প্রশান্ত, মনোরম শিক্ষাঙ্গন। সুবিন্যস্ত, পরিকল্পিত ক্যাম্পাসটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও প্রেরণাদায়ী পরিবেশ গড়ে তুলেছে। রয়েছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, গ্রন্থাগার এবং ক্রীড়া সুবিধা। সবুজে ঘেরা কলেজ প্রাঙ্গণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সহায়ক পাঠ্য ও বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক বইয়ে সমৃদ্ধ রয়েছে লাইব্রেরি; যা শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ও মননশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দৃঢ় বন্ধনে গড়ে উঠেছে আস্থা ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার একটি পরিবারতুল্য শিক্ষালয়ে। কলেজটি থেকে উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যে বিদায় নেন শুধু একটি সার্টিফিকেট নিয়ে নয়; বিদায় নেন মানুষের আত্মবিশ্বাস অর্জনে, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠার প্রত্যয়ে।
হামদর্দ পাবলিক কলেজ কেবল ভালো ফলাফলের জন্য নয়, বরং যেভাবে তারা তরুণ প্রজন্মকে মানবিকতা, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের শিক্ষায় গড়ে তুলছে; তা বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত। প্রতিষ্ঠানটি নিরবে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। বর্তমান সময়ের আলোচিত ও নির্ভরযোগ্য একটি বিদ্যাপীঠ হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে শিক্ষা সেবা দিয়ে যাচ্ছে কলেজটি। এসএসসি পাসের পর শিক্ষার্থীরা যখন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য সঠিক কলেজ বেছে নিতে দ্বিধায় পড়ে, তখন একটি প্রশ্ন সামনে আসে ‘প্রত্যাশিত কলেজ কোনটি?’ সেই প্রশ্নের প্রাসঙ্গিক উত্তর হতে পারে হামদর্দ পাবলিক কলেজ।
গৌরব ও অঙ্গীকারের ১৬তম বছরে (২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে) নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। যারা একটি আদর্শ, নিরাপদ এবং মানসম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশে নিজেকে গড়ে তুলতে চায়, তাদের জন্য হামদর্দ পাবলিক কলেজ হতে পারে এক বাস্তব ও প্রতিশ্রুতিশীল বিকল্প বা অন্যতম পছন্দের কলেজ।