যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড © টিডিসি সম্পাদিত
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়ার ঘটনায় দুই কক্ষ পরিদর্শক ও কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন। ভুল প্রশ্নপত্রের কারণে ওই পরীক্ষার্থী ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কালীগঞ্জের সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০৪ নম্বর কক্ষে। জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে নলডাঙ্গা ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন ওই কক্ষে পরীক্ষায় অংশ নেয়। নিয়ম অনুযায়ী তার জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র থাকার কথা থাকলেও ভুলবশত তাকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সুন্দরপুর চাঁদবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম ও কে পি কে বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দীন ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। পরীক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন ওই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফিরে বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং পরে কর্তৃপক্ষকে জানান।
ঘটনার পর কেন্দ্র সচিব বিধৌরা আক্তার তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দুই কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তবে তদন্তে কেন্দ্র সচিবের সরাসরি ত্রুটি না পাওয়া গেলেও সার্বিক দায়িত্বের বিষয় বিবেচনায় যশোর শিক্ষা বোর্ড তাকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। তার পরিবর্তে একই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গৌতম তরফদারকে নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক কেন্দ্র সচিব বিধৌরা আক্তার বলেন, তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র সম্পর্কে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং এর প্রমাণ হিসেবে ভিডিও রয়েছে। তবুও তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: ফল প্রকাশের পর খাতা দেখা ও পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ চান মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, বিষয়টি তার জানা রয়েছে এবং এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আলিম জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত হলেও এখনো বোর্ডের আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা হাতে পাননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের সব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুনেছেন, একজন পরীক্ষার্থীকে ভূল প্রশ্নপত্র দেয়া নিয়ে কেন্দ্র সচিবকে অপসারণসহ অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়েছে যশোর বোর্ড। তবে এ সংক্রান্ত কোনও কাগজপত্র এখনো হাতে পাননি বলে জানান তিনি।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন বলেন, ভুল প্রশ্ন বিতরণ করার দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র সচিবকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীর কোনও ধরনের ক্ষতি হবে না। যে প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে, সে প্রশ্নেই তার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।