চাকরি হারাতে পারেন ১০ লাখ পোশাক শ্রমিক

০৯ জুন ২০২০, ১০:১৯ AM

© ফাইল ফটো

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বে চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে প্রতিদিন চাকরি হারাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। ঠিক একইভাবে এই প্রভাব দেশের রপ্তানির ৮৪ ভাগ আয় আসা পোশাকখাতেও। এরই মধ্যে এ খাতে শুরু হয়েছে লেঅফ ও শ্রমিক ছাঁটাই। পোশাকখাতের সমস্যা নিরসনে সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় মে মাস পর্যন্ত শ্রমিক ছাঁটাই ও লেঅফ না করার অঙ্গীকার করে মালিকপক্ষ। তবে ঈদুল ফিতরের পর থেকে আবার একের পর এক শুরু হয় শ্রমিক ছাঁটাই।

এদিকে পোশাকশিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, কারখানায় কাজ না থাকা সত্ত্বেও দুই মাস ধরে বেতন দেওয়া হয়েছে শ্রমিকদের। উন্নত বিশ্বে বড় বড় কোম্পানির কাজ বন্ধ থাকায় শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছেন। আর কারখানা লেঅফ করে আমরা ৬০ শতাংশ বেতন দিয়েছি।

মালিকপক্ষের আশঙ্কা বর্তমান পরিস্থিতিতে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এক বছরের মধ্যে কারখানায় ২৫ শতাংশ শ্রমিক ছাঁটাই হতে পারে। বর্তমানে ৪০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান পোশাকখাত। সে হিসেবে কাজ হারাতে পারেন ১০ লাখ শ্রমিক।

আবার শ্রমিক নেতাদের মতে, কোনো কারখানা মালিক বসিয়ে রেখে শ্রমিকের বেতন দেননি। তারা কাজ করেছেন। জীবন বাজি রেখে কারখানায় এসেছেন। আর শ্রমিক ছাঁটাই করতে হলে শ্রম আইন অনুযায়ী করতে হবে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বুঝিয়ে দিতে হবে। বর্তমানে মালিকপক্ষ সেটা না করে মুনাফার জন্য যা যা করার তাই করছে। এটা হতে দেওয়া হবে না।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। প্রণোদনার অর্থ থেকে এখন শ্রমিকদের বেতন হচ্ছে। এছাড়া ঋণ, এলসি সেটেলমেন্ট, পরিষেবার বিল পরিশোধ, ভ্যাট ট্যাক্সসহ বেশ কিছু খাতে সুবিধা দেওয়া হয়েছে পোশাকশিল্প উদ্যোক্তাদের। পোশাকখাতে শ্রমিকরা যাতে চাকরি না হারান, সে জন্য বিশাল অঙ্কের প্রণোদনার পাশাপাশি দাতা প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতারা পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন।

কিন্তু এরপরও একের পর এক ছাঁটাইয়ের শিকার হচ্ছেন শ্রমিকরা। শিল্প উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী এক বছরের মধ্যে আরও শতাধিক কারখানা বন্ধ হতে পারে। ইতোমধ্যে ২৫-২৬টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। অনেকে বন্ধের নোটিশ দিয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ইউরোপ, আমেরিকার মতো উন্নত দেশের বহু নামিদামি কোম্পানির কাজ না থাকায় শ্রমিক ছাঁটাই করছে। এ পরিস্থিতিতে পোশাকখাতে ক্যাপাসিটি লস, ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ায় বহু কারখানা বন্ধ হয়েছে। এ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এক বছরের মধ্যে ২৫ শতাংশ শ্রমিক ছাঁটাই হতে পারে, যা প্রায় ১০ লাখ।

তিনি বলেন, ছাঁটাইয়ের কারণ কারখানায় কাজ না থাকা। কাজ না থাকলে মালিকদের পক্ষে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। আমরা কোনো ছাঁটাই চাই না, শ্রমিক নিয়েই আমাদের কাজ। তবে কাজ না থাকলে কী করার। ইতোমধ্যে কাজ না করেও বসে থেকে দুই মাসের বেতন পেয়েছেন।

এ বিষয়ে শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন বলেন, সরকারের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক সভার সিদ্ধান্ত মতে করোনাকালে শ্রমিক ছাঁটাই করা যাবে না। কিন্তু মালিকপক্ষ তখন হাজার হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। এখন আবার ছাঁটাইয়ের কথা বলছেন।

তিনি বলেন, কোনোরকম আইনের তোয়াক্কা না করে মুনাফার আশায় শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। ছাঁটাই করতে হলে তার পাওনা, সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়, যেটা করা হচ্ছে না।

সদরঘাট ট্র্যাজেডি: দুই দিন পর মিরাজের লাশ উদ্ধার
  • ২০ মার্চ ২০২৬
বিদেশে প্রথমবারের ঈদ, স্মৃতি আর চোখের জলে ভরা মুহূর্ত
  • ২০ মার্চ ২০২৬
কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ বছরে বিনামূল্যে ১০৭…
  • ২০ মার্চ ২০২৬
'প্রত্যেকবার আমার জন্য বিপদে পড়তে হয়েছে এই মানুষটার'
  • ২০ মার্চ ২০২৬
শ্রমিকবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা: বেতন-বোনাসে স্বস্তির…
  • ২০ মার্চ ২০২৬
দেশবাসীকে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্…
  • ২০ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence