চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি কমার আশা এডিবির

১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৬ PM , আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৯ PM
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) © টিডিসি

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। মূল্যস্ফীতি আগামী অর্থ বছরে কমার আশা করছে সংস্থাটি। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে বলে জানিয়েছে তারা। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে (এডিও) এমন পূর্বাভাস জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪.০ শতাংশ এবং আাগামী অর্থবছরে ৪.৭ শতাংশ হারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯.০ শতাংশের কাছাকাছি উচ্চ অবস্থানে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে সংস্থাটি জানিয়েছে, উচ্চ বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য এবং চলমান সরবরাহ বিঘ্ন হওয়া। তবে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৫ শতাংশে নেমে আসবে, কারণ বাহ্যিক চাপ কমবে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া ভোগব্যয় ও বিনিয়োগের পুনরুদ্ধার প্রতিফলিত হয়েছে, যা সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসার ফলে সম্ভব হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত অস্থায়ী সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্ন গত ত্রৈমাসিকে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করলেও, এর প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে জিডিপির ঘাটতি সামান্য বাড়ার আশঙ্কা করছে এডিবি। চলতি হিসাবের ঘাটতি অর্থবছরে জিডিপির ০.৫ শতাংশ হবে, যা আগামী অর্থবছরে সামান্য বেড়ে ০.৬ শতাংশ হতে পারে। এর প্রধান কারণ হবে আমদানি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতির প্রসার। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভোগ ও বিনিয়োগে মাঝারি প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে, যা শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে সমর্থিত হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগও এতে সহায়ক হবে। সরবরাহ দিক থেকে সেবা খাত পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা গৃহস্থালির ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের মাধ্যমে ত্বরান্বিত হবে। অনুকূল আবহাওয়া ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। রপ্তানি বৃদ্ধি, সরবরাহ বাধা কমে আসা এবং অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে সরকারের জোর দেওয়ার ফলে শিল্প খাতেও প্রবৃদ্ধি বাড়বে।

তবে যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে ঝুঁকি থেকে যাবে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, শিপিং রুট এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে পারে, যা দেশের অভ্যন্তরে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়াবে এবং অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণকে জটিল করে তুলবে। এডিবি মনে করে, যদি জ্বালানি ভর্তুকি বাড়ানো হয় বা মূল্য সমন্বয় সঠিকভাবে না করা হয় তবে উচ্চ জ্বালানি মূল্য বাজেট ঘাটতিও বাড়াতে পারে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে একটি কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বহির্বাণিজ্য ও আর্থিক খাতের চাপ দ্বারা প্রভাবিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বেসরকারি খাতের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তার জন্য একটি সময়োপযোগী সুযোগ তৈরি করেছে। যথাযথ নীতি ও ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতি আরও স্থিতিস্থাপক হবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরে যেতে পারবে।’

এসবিএসি ব্যাংকে তিন পদে চাকরি, আবেদন ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
মাদক সেবনের অভিযোগে আটক পুলিশ কর্মকর্তা থানা থেকে পলাতক
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
মৃত্যুর আগে বাবার মোবাইলে যে মেসেজ পাঠিয়েছিল স্কুলছাত্রী তা…
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
এক ক্লিকেই মিলবে বাসের অবস্থান, হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের উদ্…
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
আইডিই বাংলাদেশে ফিল্ড ভলান্টিয়ার পদে জনবল নিয়োগ
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
চিকিৎসা অবহেলায় বাবাকে ‘হত্যা’র অভিযোগ চিকিৎসকের, লিখলেন—সা…
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬