প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
দেশের অন্যতম শীর্ষ টেলিকম অপারেটর বাংলালিংক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর টেলিটকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি দেশের বৃহত্তম সরকারি ল্যান্ডলাইন ও ফাইবারের অবকাঠামো প্রদানকারী সংস্থা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং বাংলাদেশে ‘স্টারলিংক’-এর মাধ্যমে সরাসরি স্যাটেলাইট কানেক্টিভিটি বা ‘ডাইরেক্ট-টু-সেল’ সেবা চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাংলালিংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জোহান হেনড্রিক মার্টিনাস বুস ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জন্য নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এই প্রস্তাব ও আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। গত ২৮ মার্চ পাঠানো ওই চিঠিতে বাংলালিংক প্রধান এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য উপদেষ্টার সঙ্গে একটি বৈঠকেরও অনুরোধ করেছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলালিংক ও টেলিটকের মধ্যে সম্ভাব্য এই একীভূতকরণ বা অংশীদারিত্ব দেশের সামগ্রিক টেলিযোগাযোগ খাতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। বাংলালিংকের ব্যবসায়িক দক্ষতা ও বাজার পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং টেলিটকের সরকারি মর্যাদা ও তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) সম্পদের সমন্বয়ে এই যৌথ উদ্যোগ নেটওয়ার্ক কাভারেজ বাড়াতে অনন্য ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে দেশের সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ অঞ্চলে টাওয়ার, তরঙ্গ এবং প্রযুক্তির যৌথ ব্যবহারের মাধ্যমে অবকাঠামোগত বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর আগে ২০২৪ সালের শুরুতে এই দুই অপারেটরের মধ্যে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ‘ন্যাশনাল রোমিং’ এবং সক্রিয় নেটওয়ার্ক শেয়ারিং শুরু হয়েছিল, যা এই গভীর অংশীদারিত্বের প্রাথমিক অগ্রগতি হিসেবে কাজ করবে।
বাংলালিংক ও বিটিসিএল-এর মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য ট্রিপল-প্লে (ভয়েস, ডাটা ও আইপিটিভি) এবং কোয়াড্রপল-প্লে (মোবাইল সেবাসহ) বান্ডেল সেবা চালু করা সম্ভব হবে। বিটিসিএল-এর দেশব্যাপী বিস্তৃত ফিক্সড-লাইন ও ফাইবার অবকাঠামো এবং বাংলালিংকের মোবাইল নেটওয়ার্ক সক্ষমতা ও দেশের অন্যতম শীর্ষ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’-কে কাজে লাগিয়ে সাধারণ পরিবার ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের সমন্বিত ডিজিটাল সেবা দেওয়া যাবে। এর ফলে গ্রাহক অভিজ্ঞতা যেমন উন্নত হবে, তেমনি ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে দুই প্রতিষ্ঠানেরই রাজস্বের উৎস বহুমুখী হবে।
বিশ্বখ্যাত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’-এর মাধ্যমে সরাসরি মোবাইল ডিভাইসে স্যাটেলাইট কানেক্টিভিটি বা ‘ডাইরেক্ট-টু-সেল’ সেবা চালুর বিষয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ডিজিটাল অপারেটর ভিওন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো বিশেষ বা অতিরিক্ত সরঞ্জাম ছাড়াই সাধারণ মোবাইল ফোন সরাসরি কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, যা দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল কাভারেজ পৌঁছে দিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে ইউক্রেন ও কাজাখস্তানে ভিওন তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই সেবা চালু করেছে। তবে বাংলাদেশে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক এই মোবাইল সেবা বাস্তবায়নের জন্য স্পেকট্রাম নীতি এবং লাইসেন্সিং বিধিমালার মতো বিদ্যমান রেগুলেটরি কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিমার্জন প্রয়োজন হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায় ইনডোর নেটওয়ার্ক কাভারেজ শক্তিশালী করার জন্য বাংলালিংকের লো-ব্যান্ড স্পেকট্রাম (৭০০ মেগাহার্টজ বা ৮০০ মেগাহার্টজ) প্রয়োজন। সম্প্রতি গ্রামীণফোন বিটিআরসি-র কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দ পেয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলালিংক ইজিএসএম ব্যান্ডের তরঙ্গ অধিগ্রহণেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সীমান্ত এলাকায় কিছুটা ইন্টারফেয়ারেন্স বা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সুপরিকল্পিত রিফার্মিংয়ের মাধ্যমে এই তরঙ্গের কার্যকরী ব্যবহার সম্ভব। এই তরঙ্গ সম্পদ নিশ্চিত করা গেলে বাংলালিংক তাদের সেবার মান আরও উন্নত করতে এবং দেশব্যাপী ফোরজি ও ভবিষ্যৎ ফাইভজি কাভারেজ সম্প্রসারণে আরও সক্ষম হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।