আন্দোলনের সময় গুপ্তদের অনেক খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি: তারেক রহমান

২১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৮ AM
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী © সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে অনেকেই দাবি করে, কারও নাম উল্লেখ করতে চাই না, একটি শব্দ ‘গুপ্ত’ ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও তাদের চিনে। আন্দোলনের সময় আমরা অনেক খুঁজেছি, কিন্তু তাদের পাইনি। আপনারা কি রাজপথে তাদের দেখেছিলেন? বিভিন্ন সময়ে তাদের দেখেছি, যারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে। শেষের দিকে কিছু জায়গায় দেখেছি। কিন্তু ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় তাদের দেখিনি।’

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এ কারণেই দেশের মানুষ যুগপৎ আন্দোলনের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছে এবং বিশ্বাস করেছে, তারাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে।’

দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জনগণ প্রত্যাশা নিয়ে দায়িত্ব দিয়েছে। তাই আগে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে, পরে নিজেদের কথা ভাবা যাবে।

বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টার সঙ্গে নিজের কথোপকথনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে ওই উপদেষ্টা তাকে বলেছেন, ১৮ মাস দেশ পরিচালনার সময় তারা খুব অসহায়ের মতো ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের ৬০ শতাংশের বেশি জায়গায় সেই ‘গুপ্তবাহিনীর’ প্রভাব ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের পর জনগণের রায়ের কারণে তারা দিশাহারা হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে, যা সংবাদপত্র ও সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।

বক্তব্যে ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬ থেকে ১৭ বছরে রেখে যাওয়া বিধ্বস্ত অর্থনীতি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎব্যবস্থা, শিক্ষা, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে এসব সংকট মোকাবিলার কথাও বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে আছি, একসঙ্গে ছিলাম, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও একসঙ্গে থাকবো। আমাদের মধ্যে ডিফারেন্স অব ওপিনিয়ন (মতভিন্নতা) হতে পারে, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির কোনো কারণ আছে বলে মনে করি না। ৩১ দফার মাধ্যমে আমরা একটি জায়গায় একত্রিত হয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এক।’

‘৩১ দফার কোনো একটি দফা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে আপনার একটি মত থাকতে পারে, আমার একটি মত থাকতে পারে। এখানেই কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। ৩১ দফা ও জুলাই সনদের আলোকে আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো,’ যোগ করেন তিনি।

এর আগে বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর সবাই একসঙ্গে হয়েছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় সবাই নির্যাতিত হয়েছেন। আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সফল হয়েছেন এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিজয় অর্জন করেছেন। জনগণ আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক রাজনৈতিক দল মিলে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তখন অন্য অনেক রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি, যারা পরে সংস্কারের কথা বলেছেন, তাদের সংস্কারের ‘স’ বলতেও দেখা যায়নি। অথচ স্বৈরাচারের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে তখনকার যুগপৎ জোটই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল।’

তারেক রহমান জানান, তার বিশ্বাস, নির্বাচনে জনগণ ৩১ দফার পক্ষেই রায় দিয়েছে। এখন এটি শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের ৩১ দফা হয়ে গেছে। ১২ তারিখের নির্বাচনে সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং সফল হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিদায় হওয়ার পর একটি ‘গুপ্তবাহিনী’ ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের সময় তারা ডিজিটাল মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। তবে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পেলে সব সময় দেশের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্তই নেয় এবং ১২ তারিখের নির্বাচনেও সেটিই করেছে।’

ঘাড়ের ব্যথাকে হালকাভাবে নিচ্ছেন? জেনে নিন করণীয়
  • ২১ জুলাই ২০২৬
কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বাড়ালেন ট্রাম্প
  • ২১ জুলাই ২০২৬
শিক্ষক নিয়োগ দেবে আকিজ কলেজিয়েট স্কুল 
  • ২১ জুলাই ২০২৬
পাবনায় মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফ…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
গারদখানা থেকে পালিয়ে যাওয়া ৩২ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
  • ২১ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনার পরবর্তী খেলা কবে
  • ২১ জুলাই ২০২৬